অধ্যাপক রশীদুল হাসানঃ ১৯৬৬ সালের ২৫ জানুয়ারি, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি, তাজউদ্দীন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও এম মনসুর আলী সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত আরটিসি সম্মেলনে শেখ মুজিব বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব শেখ মুজিব ও আওয়ামী লী...
এম. নজরুল ইসলামঃ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্মের ২৩ বছর পর ১৯৭০ সালে দেশটিতে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বাঙালীর প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত...
অধ্যাপক ডঃ কামরুল হাসান খানঃ বাঙালির ভাষা আন্দোলনে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেদিনের ধর্মঘটের মাধ্যমে আন্দোলন দানা বাধে ও বেগবান হয়- যার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের নাজিমুদ্দিন সরকার চুক্তি করতে বাধ্য হয় এবং আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয় অর্জিত হয়। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে বিরোধী দলের পক্ষে কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত সদ...
তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ যে মহাকাশের রাজত্বেও ভাগ বসাবে, তা হয়তো কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে এখন পৃথিবীর কক্ষপথজুড়ে ঘুরছে আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এর মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলেও পৌঁছানো হচ্ছে ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা, টেলি-মেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-ব্যাংকিং থেকে শুরু করে যাবতীয় ভার্চুয়াল সুযোগ-সুবিধা। এর মাধ্যমে, সাইবার ক্যাবলের ...
সময়টা ছিল যুদ্ধমুখর। কয়েক দশক ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রাম চলছিল। একদিকে কমিউনিস্টদের বিপ্লব চলছিল, অন্যদিকে মুক্তির জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধে লিপ্ত ছিল বিশ্বের বেশ কয়েকটি রণাঙ্গণ। তবে, বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রাম ছিল অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের স্বাধীনতার এই যুদ্ধ ছিল সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত। ১৯৭০ স...
হীরেন পণ্ডিতঃ গণতান্ত্রিক চেতনায় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মতো জাতির দিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো যে অধ্যায় সৃষ্টি করেছিল সেইসব ঘটনার কেন্দ্রে নিহিত গণতান্ত্রিক চেতনায় আজও আমরা রাষ্ট্র ও সমাজে এর যথাযথ বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়া ও ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৯৩টি রাষ্ট্রে প্রতি বছরে ...
এম. নজরুল ইসলাম: বাঙালির মেরুদন্ড মাতৃভাষা বাংলা-এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পাকিস্তানের জন্ম থেকেই বাঙালিরা ছিল সোচ্চার। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন করাচীতে শুরু হলে পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষার ওপর একটি সংশোধনী প্রস্তাবে বলেন, উর্দু এবং ইংরেজীর সঙ্গে বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হোক। সংশোধনী ...
বিপ্লব বড়ুয়া: বিশ শতকের চল্লিশের দশকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সভ্যতার সংকট প্রবন্ধে লিখেছিলেন, ‘আজও আশা করে আছি পরিত্রাণ কর্তা আসবে সভ্যতার দৈববাণী নিয়ে চরম আশ্বাসের কথা শোনাবে পূর্ব দিগন্ত থেকেই।’ বাংলার ভাগ্যাকাশে সেই পরিত্রাণ কর্তা হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষা আন্দোলন-বাংলা-বাঙালি-বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একই সূত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধু...
কেমন ছিল ভাষা আন্দোলনের দিনগুলো? তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান কিভাবে ছাত্রদের সংগঠিত করে ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন? ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত টানা ৩ বছর কেন জেলে বন্দি ছিলেন তিনি? আইসিটি ডিভিশনের তত্ত্বাবধায়নে নির্মিত 'মুজিব আমার পিতা' অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে ফুটে উঠেছে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং এর ফলে পশ্চিমা শাসকদের নির্যাতন-উৎপীড়ন ভোগ ...
স্কোয়াড্রন লীডার সাদরুল আহমেদ খান (অবঃ): ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালী ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় আর এর সাথে বঙ্গবন্ধুর নাম নিবিড়ভাবে জড়িত। জাতির পিতা ১৯৪৮, ১৯৫২, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৯ এর আন্দোলনের দিনগুলোতে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নে, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে মাতৃভাষা বাংলায় বক্তৃতা করার মাধ্যমে ভাষার মর্যাদা সমুন্নত করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীতে বঙ্গবন্ধ...
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙ্গালির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠারও আন্দোলন। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা শেখ মুজিব ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সাড়ে ৭ কোটি বাঙ্গালির সর্বাত্মক লাভ করেন। বায়ান্নোর পথ ধরে জনগণের বিজয় অর্জিত হয়। ১৯৭১ সালের ২০-২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যরাতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। বঙ্গবন্ধু শহীদ মিনার পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে মিছ...
তন্ময় আহমেদ: 'মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাংলা ভাষা' অতুলপ্রসাদ সেনের এই কথা প্রতিটি বাঙালিরই মনের কথা। মা, মাটি আর মুখের বোল- এই তিনে মনুষ্য জন্মের সার্থকতা। নিজের মুখের ভাষার চেয়ে মধুর আর কিছু হতে পারে না। মাতৃভাষার অধিকারকে বুকের রক্ত দিয়ে আপন করে নেওয়ার ইতিহাস আমাদের। এই ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অ...
হীরেন পণ্ডিত: প্রত্যেক দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে একজন বড় মাপের নেতা থাকেন। যেমন আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন, রাশিয়ার লেনিন, চীনের মাও সেতুং, ভারতের মহাত্মা গান্ধী, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ, ভিয়েতনামের হো চি মিন এবং বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু। জাতির পিতা, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বা স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা হিসেবে তাঁরা নিজ নিজ দেশে মর্যাদার আসনে চিরকাল অধিষ্ঠিত আছেন। যেমন আমাদের আছেন...
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি আজ এক বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ২৪ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতনের লক্ষ্যে দুর্বার গণআন্দোলন শ...
আগামীকাল ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ৬৯’-এর গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা ভিত্তিক গণ-আন্দোলনের আদর্শকে ধারণ করে অগ্রসরমান সংগ্রামের পথপরিক্রমায় ১৯...
ড. প্রণব কুমার পাণ্ডেঃ ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। কারণ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার পর লন্ডন ও নয়াদিল্লি হয়ে দেশের পবিত্র মাটিতে ফিরে আসেন এই দিনে। বাংলাদেশে ফিরে আসার আগে, তিনি পাকিস্তানের কারাগারে ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, য...
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন সেমতেই বাংলাদেশ চলবে। আর দেশের এই অগ্রযাত্রা যাতে কোনভাবে ব্যাহত না হয় সে বিষয়েও সকলকে সতর্ক করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে (পাকিস্তানের কারাগার থেকে) এসে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কিভাবে চলবে সেই নীতিনির্ধারণী বক্তৃতা ...
ড. আতিউর রহমানঃ এবারের দশই জানুয়ারি এক ভিন্ন মেজাজে পালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই দিবসে আমরা প্রবল উৎসাহে তার জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর আনন্দ দেশবাসীর সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ হানাদার পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরমুক্ত হলেও আমাদের বিজয় সেদিন পূর্ণ হয়নি। যিনি বাংলাদেশের আরেক নাম সেই তিনি তখনো পা...
তন্ময় আহমেদঃ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। ত্রিশ লাখ শহীদ ও চার লাখ নারীর ত্যাগের বিনিময়ে বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে আমাদের জন্মভূমি। সেই পৌষের পড়ন্ত বিকেলে বিজয়ের উত্তাপে শীতের অনুভূতি হারিয়ে ফেলে মানুষ। উল্লাসে ফেটে পড়ে জনগণ। তবে রাত পেরোনোর আগে...
হায়দার মোহাম্মদ জিতু: কালের ইতিহাসে কোন কোন শাসকও যে জনগণের জন্যে কাতর-উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং তাদের দুর্দশা লাঘবের জন্য সব ছেড়ে-ছুঁড়ে সংগ্রাম করেছেন তারই একখণ্ড উদাহরণ সফোক্লিসের ‘ঈদিপাস’ নাটক। যেখানে গ্রিক রাজা ঈদিপাস তার প্রাসাদ মুখে দাঁড়িয়ে দু’হাত প্রসারিত করে জনগণের দুর্দশাকে আলিঙ্গন করেছেন এবং তার থেকে উদ্ধারের পথ নির্মাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছে...