আন্তর্জাতিক কোন চাপের কাছেই নতি স্বীকার করবোনাঃ প্রধানমন্ত্রী

622

Published on জানুয়ারি 12, 2014
  • Details Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করার কথা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তাঁর সরকার দেশ ও জনগণের কল্যাণে যা করা প্রয়োজন সে লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা ভাল করেই জানেন যে শেখ হাসিনা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে না। এই দেশ আমাদের এবং জনগণও আমাদের। দেশ ও জনগণের জন্য যে কাজ করা প্রয়োজন তা আমরা করে যাব।’

শেখ হাসিনা নতুন সরকার পরিচালনার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জনগণের স্বাভাবিক জীবন-জীবিকায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বিএনপি’র প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার পরিচালনার জন্য আমরা সকলের সহযোগিতা চাই। আমি বিএনপিকে আগেও বলেছি এবং এখনও বলছি যে আপনারা হরতাল ও অবরোধ, মানুষকে পুড়িয়ে মারা ও গাছ কাটার মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিহার এবং যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করুন।’

বিএনপি’র সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি এবং এ ব্যাপারে আমরা কোন সমস্যার সম্মুখীন হবো না।’

তবে তিনি বলেন, সবার আগে বিএনপিকে প্রথমেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গিবাদ বন্ধ করতে হবে।

ভারতের সঙ্গে তিস্তা ও ছিটমহল ইস্যু মীমাংসা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত ইস্যুর ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে এবং ভারতের পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপিত হয়েছে।

তিনি বলেন, তিস্তা ও ছিটমহল ইস্যু নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তিস্তা চুক্তির বিরোধিতা করতে পারেন। কারণ, তিনি তার নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখছেন এবং আমি মনে করি প্রতিবেশী হিসেবে সমঝোতার মনোভাব নিয়ে তার এগিয়ে আসা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে যে কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে এবং মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

বহুপ্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, মূল সেতুর নির্মাণ কাজ আগামী জুন মাসে শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ এবং এপ্রোচ সড়কের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যে মূল সেতুর কাজ শুরু করা হবে।’

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। তিনি বলেন, ‘রায় ঘোষণা ও ফাঁসি কার্যকর করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, তার সরকার জনগণের জান-মাল রক্ষা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করা, উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখা, ব্যবসা-বাণিজ্য, রপ্তানী এবং সব ধরণের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহিংসতার উর্ধ্বে রাখার জন্য একটি জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘জনগণের জান-মাল রক্ষা, শান্তি নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহন করবো। সাধারণ জনগণের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সন্ত্রাস ও সহিংসতার অবসান চাই।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার সরকার বিগত পাঁচ বছরে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম।

তিনি বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং আমরা ইনশাল্লাহ আগামী দিনগুলোতেও এগিয়ে যাবো।’

বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরণের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনোত্তর সহিংসতার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার নৈরাজ্য ও অনিশ্চয়তার পরিবর্তে শান্তি ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে চায়।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে, দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ শান্তি ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে চায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে উপলব্ধি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা চাই দেশের মানুষ শান্তিতে ও নিরাপদে বসবাস করবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দল বিএনপি গণতন্ত্র জোরদার এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে সংসদ নির্বাচন আরো প্রতিযোগিতামূলক হতো এবং গণতন্ত্র আরো দৃঢ় ভিত্তি পেতো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন হয়তো উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে তিনি ১০ম সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করে একটি বিরাট ভুল করেছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (খালেদা) হয়তো উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করার জন্য যাদের কাছ থেকে তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তাই, আমি আশা করছি যে, তিনি (খালেদা) গণতন্ত্রের পথে থাকবেন এবং নাশকতামূলক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে তার দল পুনর্গঠন করবেন।’

প্রধানমন্ত্রী সংলাপ অনুষ্ঠানের জন্য বারবার তার আহ্বানে সাড়া না দেয়া এবং সরকার থেকে উৎখাতের জন্য বারবার আল্টিমেটাম দেয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পথের পরিবর্তে খালেদা জিয়ার সংঘাতের পথ বেছে নেয়ার বিষয়টিকে জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক যার কারণে সকল শ্রেণীর বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক যে দুস্কৃতকারীরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন নারীর সম্ভ্রম হরণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি, নির্বাচন কমিশন, নতুন ভোটারসহ সাধারণ ভোটার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ১০ম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করে যথাযথ ভূমিকা পালন করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত