মানসিক রোগীকে অপরাধে প্ররোচিত করার দায়ে কঠোর শাস্তি, মন্ত্রীসভায় অনুমোদন

3786

Published on জানুয়ারি 3, 2018
  • Details Image
  • Details Image

মন্ত্রিসভা অপরাধ সংঘটনে কোন মানসিক রোগীকে প্ররোচিত করার দায়ে কঠোর শাস্তি প্রদানের পরামর্শ দিয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য আইন-২০১৭ এর খসড়া অনুমোদন করছে।

খসড়া আইনে লাইসেন্স ছাড়া কোন মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনার দায়ে কঠোর শাস্তি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ এখানে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, নতুন আইনটি ১০৫ বছরের পুরানো ‘মানসিক বিকার-আইন-১৯১২’ এর স্থলাভিষিক্ত হবে।

শফিউল আলম বলেন, আইনে মানসিক রোগীর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেয়া আছে। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি মানসিক প্রতিবন্ধী রোগে ভুগলে অথবা নিজের অবস্থান বুঝতে অক্ষম হলে, অথবা কোন মাদকাসক্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবন যাপনে অক্ষম হলে, তাকে মানসিক রোগী হিসাবে গণ্য করা হবে।

খসড়ায় আরো বলা হয়, সরকার মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য দেশে একটি অধিদপ্তর গঠন করবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের অধীনে প্রতিটি জেলায় তিন সদস্যের একটি রিভিউ ও মনিটরিং কমিটি গঠিত হবে। এতে জেলার সিভিল সার্জন ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সদস্য থাকবেন।

শফিউল আলম বলেন, মানসিক রোগীদের চিকিৎসায় সহযোগিতা পেতে চাইলে রোগীদের অভিভাবকদের এই কমিটির কাছে আবেদন করতে হবে। এ ধরনের আবেদন প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে রিভিউ কমিটিকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মানসিক রোগীদের চিকিৎসা এবং এ ক্ষেত্রে মানসম্মত সেবা দেয়ার জন্য বেসরকারি সেক্টরে আওতায় হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট স্থাপন ও পরিচালনার জন্যও এই আইনে বিধান রাখা হয়েছে।

শফিউল আলম বলেন, লাইসেন্স ছাড়া মানসিক হাসপাতাল পরিচালনা করা হবে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ জন্য একজন পরিচালনাকারী ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা তিন বছরের কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে।

একজন মানসিক রোগীকে কোন প্রকার অঘটনের উস্কানিদাতা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা দুই বছরের জেল অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।

আজকের সভায় বাংলাদেশ ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যে বাণিজ্য, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করা হয়।

সভায় বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকেরও অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠককালে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা লয়েড-এর একটি সনদ হস্তান্তর করেন। এতে বিশ্বের একশ’টি সমুদ্র বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৭১তম। ২০০৯ সালে এই বন্দরের অবস্থান ছিলো ৯৮তম।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ছায়েদুল হক, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, গাইবান্ধা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদের মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনটি পৃথক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

ছবিঃ সাইফুল ইসলাম কল্লোল

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত