শুভ হোক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের স্বপ্নযাত্রাঃ ড. এজাজ মামুন

5605

Published on মে 13, 2018
  • Details Image

বিজ্ঞানের সাফল্যগুলো কাজে লাগিয়ে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন বিজ্ঞানের সাফল্যগুলোর অন্যতম। যোগাযোগ, পৃথিবীপৃষ্ঠের বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি সংগ্রহ থেকে শুরু করে গুপ্তচরবৃত্তি—অনেক কিছুই করার এক অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কৃত্রিম স্যাটেলাইটের ব্যবহার করার কথা আজ আর আমাদের অজানা নয়। স্যাটেলাইট ছাড়া আমাদের আধুনিক জীবনযাপনের কথা ভাবা কঠিন। আজ কৃত্রিম উপগ্রহের কারণে আমরা আগামীকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে থাকি, পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে নিমেষেই জানতে পারি, আমাদের যাত্রার পথ কী হবে, তার নির্দেশনা পাই। মূলত, স্যাটেলাইটের ওপর আমাদের আধুনিক জীবন পুরোপুরি নির্ভরশীল।

স্যাটেলাইট হলো মহাকাশে অবস্থিত কোনো বস্তু যা প্রতিনিয়ত প্রদক্ষিণ করছে তার থেকে বড় একটি বস্তুকে। এই বিশ্বব্র?হ্মাণ্ড সৃষ্টির গোড়া থেকেই সৌরমণ্ডলে রয়েছে অসংখ্য প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট। যেমন, চাঁদ প্রাকৃতিক স্যাটেলাইট হয়ে আমাদের পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। বেশিরভাগ গ্রহের রয়েছে প্রাকৃতিক স্যাটেলাইট। এদের সংখ্যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক হয়ে থাকে। যেমন শনিকে প্রদক্ষিণ করছে ৫৩টি প্রাকৃতিক স্যাটেলাইট। প্রকৃতির অফুরান বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা আর শক্তিকে কাজে লাগিয়েই মানুষ এগিয়ে গেছে। কৃতকার্য হয়েছে কৃত্রিম স্যাটেলাইট তৈরিতে ও কক্ষপথে এগুলো স্থাপন করতে।

মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনের ঘটনা একেবারেই নতুন নয়। ষাট বছর আগে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-১ নামের কৃত্রিম উপগ্রহ প্রথমবারের মতো মহাকাশে স্থাপন করে। বর্তমানে সক্রিয় আর নিস্ক্রিয় মিলিয়ে সাড়ে ছয় হাজারেরও অধিক কৃত্রিম স্যাটেলাইট রয়েছে কক্ষপথে। হাজারেরও বেশি কৃত্রিম স্যাটেলাইট আমাদের উন্নয়ন ও আধুনিক জীবনের অনেক চাহিদা মেটাচ্ছে। আমাদের থেকে হাজারো মাইল দূরে কক্ষপথে অবস্থান করলেও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার অনেক প্রয়োজনীয় তথ্যাদি, টেলিভিশনের সিগনাল ট্রান্সমিট, টেলিফোন, উচ্চগতির ইন্টারনেট, আবহাওয়া তথ্যাদি, স্থানের নির্দেশনা থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনের উপাত্তগুলোর সংগ্রহসহ অসংখ্য বিষয়ের সহজ ও সাশ্রয়ী নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কৃত্রিম স্যাটেলাইটগুলো কাজ করছে।

এক সময় ভাবা হতো উন্নত দেশগুলোই মহাকাশ গবেষণা, কক্ষপথে স্যাটেলাইট প্রেরণ ও স্থাপনের একমাত্র ভাগিদার। বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে কক্ষপথ নিয়ে চিন্তা করা কিংবা স্যাটেলাইট নিয়ে ভাবা অনেকটা বাতুলতা ছিল। আজ যখন এই লেখাটি লিখছি, আমাদের সেই অসম্ভব স্বপ্ন বাস্তবরূপ নিয়েছে। আমাদের চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আমরা আজ প্রত্যয়ী হয়েছি বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১-এর স্বপ্নযাত্রা নিয়ে। নিশ্চিত করে বলতে পারি ‘বঙ্গবন্ধু-১’ বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন তার ফলশ্রুতিতেই আজ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট, পদ্মাসেতু, মেট্রো রেলের মতো প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখেছে।

অদম্যগতিতে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। মেহনতি কৃষকেরা দেশকে আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। আমাদের পোশাক শ্রমিকেরা দেশের পোশাক শিল্পকে সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। আমাদের প্রবাসী কর্মীরা দেশের জন্য উপার্জন করছেন উল্লেখ্যযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা। এখন সময় এসেছে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর। আর এ-জন্য চাই দক্ষ শিক্ষিত জনশক্তি ও প্রযুক্তিবিদ। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও এর ব্যবহারে ফলাফল পাবার জন্য চাই উপযুক্ত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা। ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইটকে সামনে রেখে পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদিত মুলধন নিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড গঠন করা হয়েছে। আমাদের আশাবাদ থাকবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, যোগ্য প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয় ঘটিয়ে এবং যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যাবে।

সৌজন্যেঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত