বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন প্রসারিতঃ আহমেদ আমিনুল ইসলাম

2370

Published on মে 16, 2018
  • Details Image

বিশ্বসভায় বাংলাদেশ আজ নতুন এক উচ্চতায় উন্নীত। বাংলাদেশের স্যাটেলাইট এখন নভোমণ্ডলে বিচরণশীল। বাংলাদেশ এখন একটি স্যাটেলাইটের মালিক। মহাকাশেরও অংশীদারী-মালিকানায় এখন বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত। স্যাটেলাইট সমৃদ্ধ বিশ্বের ৫৭টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ। স্যাটেলাইট দেশভুক্ত ক্লাবের গর্বিত নতুন সদস্য বাংলাদেশ- আমরা এখন সেই গর্বিত দেশের নাগরিক। আমাদের একটি নিজস্ব স্যাটেলাইট আছে বলে আজ আমাদের অহঙ্কারের মাত্রাও ভিন্নতর। আমাদের এই অঙ্ককার করার সুযোগটি এনে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ; তার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণ। বাংলাদেশকে পুনরায় ইতিহাসের অংশ হিসেবে পরিচয় প্রদানের মাধ্যমে মর্যাদাদান করার জন্য আমরা সাধারণ দেশবাসী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানাই। অভিবাদন জানাই কারণ জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য আমাদের সমুদ্র বিজয় সম্ভব হয়েছে, সম্ভব হয়েছে সীমান্তলগ্ন করিডোরের ভ‚মিসংক্রান্ত বিরোধ। সুতরাং জল, স্থল ও নভোমণ্ডলের সর্বত্রই আমরা দেখছি জননেত্রী শেখ হাসিনার জয়জয়কার সাফল্য! অতএব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক নির্দেশনায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তা এখন আর কারো উপলব্ধি করতে কষ্ট হয় না!

দুর্মুখ, দুর্জন ও নিন্দুকেরা ইতোমধ্যে নানাভাবে প্রচারের চেষ্টা করে বলছে যে, দেশের হাজারো জরুরি সমস্যা বিদ্যমান। সে সবের সমাধান না করে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’-এর মতো বড় প্রকল্পে এত ব্যাপক পরিমাণের অর্থ খরচ যথার্থ হয়নি। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট থেকে যখন বিভিন্ন সেক্টরে আর্থিক ফল লাভসহ বিভিন্ন রকমের উপকার পাওয়া শুরু হবে আমরা নিশ্চিত যে, নিন্দুকেরা তখন নিজেদের মুখ লুকানোর জায়গা পাবে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন, যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয়ে সেবাসহ বিনোদন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ উপকৃত হবে। ইন্টারনেটে গতি বৃদ্ধি পাবে- ফলে আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটবে। তথ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই স্যাটেলাইট বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন : ‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চল থেকে শুরু করে গোটা দেশে সেবা পৌঁছে দিতে পারব। সেই সঙ্গে বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশকে এখন থেকে কিছুটা স্পেস ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করার সুযোগ আছে।’

শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব গুণের কল্যাণে এটি সম্ভব হয়েছে। আর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আমাদের আগামী প্রজন্মের স্বপ্নও সীমাহীন প্রসারিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের এই প্রেরণা তরুণ প্রজন্মকে মহাকাশ গবেষণায় ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রাও নির্দেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জননেত্রীর আগে কেউ কখনো আমাদের সামনে এমন বার্তা দেয়নি, দিতে পারেনি। কোনো নেতার মধ্যেই সেই দিকনির্দেশক প্রতিভার স্ফ‚রণ আমরা দেখিনি। আমরা কখনো ভাবতেও পারিনি বাংলাদেশের মতো একটি দেশ কখনো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে! কিন্তু অদম্য নেত্রীর অদম্য স্বপ্ন আমাদের নানা ঘটনা পরম্পরায় দিন দিন কেমন প্রত্যয়ী করে তুলছে! আমরা এখন একটি উন্নত রাষ্ট্রের গন্তব্যের পথ ধরে হাঁটছি মাত্র। সেই হাঁটার প্রাথমিক সুফল আমরা ঘরে তুলেছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় আমাদের নাম লিখিয়েছি। কিন্তু এখানেই থামলে চলবে না।

বাংলাদেশের সক্ষমতা আজ বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সফল বাংলাদেশ গড়ার জন্য সাধারণ মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার অঙ্গীকার ও সেই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন এ দেশের মানুষকে প্রত্যয়ী করে তুলেছিলেন শেখ হাসিনা। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্ম সেতু প্রকল্প গ্রহণ করার প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় ঘোষণায় এ দেশের মানুষ আরো একবার প্রত্যয়ী হয়েছিল। সমকালের সর্বশেষ আকর্ষণীয় বিষয় মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রেরণের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ আরো একবার প্রত্যয়ী হয়ে উঠেছে। এর পশ্চাতেও জননেত্রীর গগনবিহারী স্বপ্ন বাস্তবরূপে আত্মপ্রকাশ করায় সাধারণ মানুষ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, একটি দেশের সাধারণ মানুষের আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে, আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার মধ্য দিয়েই দেশ এগিয়ে যায়। সাধারণ মানুষের বৈচিত্র্যময় কর্মযজ্ঞের মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যাবে- উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হবে আমাদের বাংলাদেশ। মানুষকে কেবল যথাযথ স্বপ্ন দেখাতে পারলে ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো আমাদের জন্য অসম্ভব কী? এ জন্য যে স্বপ্ন ও উদ্যম প্রয়োজন দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে তা জাগ্রত করার জন্য জননেত্রী বারবার উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। তাই তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের এখন দুর্দম গতি! মহাকাশে বিচরণশীল উপগ্রহের মতো। মানুষের বৈচিত্র্যময় কর্মযজ্ঞের সঙ্গে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত সুবিধা যোগ করে উন্নত রাষ্ট্রের পানে বাঙালির যাত্রা আরো সক্ষমতায় পরিপূর্ণ, আরো সফলতায় পরিপূর্ণ। গাজীপুর স্যাটেলাইট গ্রাউন্ডের অপারেশন প্রকৌশলী তাজুল ইসলামের বক্তব্য থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের এক ঘণ্টা ১০ মিনিট পর গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন প্রাথমিক সংকেত পেয়েছে। স্যাটেলাইটটি ৩৬ হাজার কি.মি. পথ পাড়ি দেয়ার পর নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছাতে সাত থেকে নয় দিন সময় লাগবে। ওই প্রকৌশলীর কাছ থেকে আরো জানা যায় যে, এই স্যাটেলাইটের সুবিধা পেতে আরো প্রায় তিন মাস সময় লাগবে। এতে ব্রডব্যান্ড সুবিধা প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যাবে। এর মাধ্যমে টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং, ইন্টারনেটসহ অনেক সুবিধা আমরা পাব যা শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের আরো অনেক উন্নতি ঘটাবে। এক কথায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মহাকাশের ওপার থেকে বাঙালির উন্নয়নের সুর ও সঙ্গীতই ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়ে বাজবে।

যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করার জন্য যেমন আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়েছিলাম, সমুদ্রজয়ের জন্য আমরা যেমন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়েছিলাম, যেমন অভিবাদন জানিয়েছিলাম ছিটমহল সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে ভূমিসম্পদ সুরক্ষার জন্য; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তার চেয়েও গভীর ভালোবাসায় সিক্ত অভিবাদন জানাই মহাকাশ বিজয়ের এই সূচনালগ্নে। আপনাকে অনেক অনেক অভিবাদন জননেত্রী, বাঙালির সার্বিক মুক্তির কাণ্ডারি!

লেখকঃ অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত