চক্রান্তকারীদের চেহারা উন্মোচনের এখনই সময়

5600

Published on সেপ্টেম্বর 2, 2018
  • Details Image

মুহম্মদ শফিকুর রহমানঃ

এখন চারদিকে চক্রান্তের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যারা ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করল, সেই আগস্ট ট্র্যাজেডির চক্রান্তকারীদের কুৎসিত চেহারা আজও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। চক্রান্তকারীদের শীর্ষস্থানে রয়েছে আইএসআইর এজেন্ট মিলিটারি জিয়া এবং সিআইএর এজেন্ট খন্দকার মুশতাক। এদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছে খালেদা-তারেক। এই চেহারাগুলো উন্মোচন করার সময় এখনই।

মাঝে তিন মাস, তার পরই জাতীয় নির্বাচন। কেউ কেউ বলছেন ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন হবে। সরকারী দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জাতীয় সংসদের বাইরের বিরোধী বিএনপিও হুমকি-ধমকি দিয়ে চলেছে। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন কারাভোগরত দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। নির্বাচন প্রতিহত করবেন। এই ‘প্রতিহত’ কথাটাই ভীষণভাবে শঙ্কা জাগায়। ওদের প্রতিহিত করার একটা চিত্র আমাদের কাছে আছে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত নির্বাচন প্রতিহত করার যে চিত্র দেখিয়েছিলেন তা ভাবলে আজও গা শিউরে ওঠে। ওই প্রথম বাংলাদেশে পেট্রোলবোমার আমদানি হয়েছিল এবং আমদানি করেছিল দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত মা-বেটা এবং এই পেট্রোলবোমা হামলায় দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, লেগুনা, অট্রোরিক্সা, রিক্সা, ইজিবাইক এবং এমনকি গরুর ট্রাক পর্যন্ত জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছিল তারা।

এমন নিষ্ঠুর রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর চায় না। কিন্তু বিএনপি তা মানছে না। বরং দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে পলাতক জিয়া-খালেদা পুত্র তারেক রহমানের কথামতো নির্বাচন ‘প্রতিহত’ করার নামে আবারও পেট্রোলবোমার চর্চা শুরু করার হুমকি দিচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে কিছু শিক্ষিত লোক আছে। মানলাম জিয়াপত্নী হিসেবে খালেদা জিয়াকে তারা সহ্য করছে, কিন্তু এই অশিক্ষিত তারেক রহমান, যার গায়ে এরই মধ্যে সন্ত্রাসের সিল লেগে গেছে, তাকে কিভাবে সহ্য করে ভাবতে অবাক লাগে। হয় তারা লোভী, নয়ত ভয় কাজ করছে কিংবা তারা মনে করছে আসন্ন নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগের তো ভরাডুবি হবে। তখন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন হবে এবং তারা একেকজন বড় বড় মন্ত্রী হবেন এবং তখন দেখাবেন ক্ষমতা কাকে বলে। ক্ষমতা থাকলে নেতা খালেদা হবেন বা সন্ত্রাসের দাগ লাগা তারেক হবে তাতে কিছু আসে যায় না।

অবশ্য তাদের আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা ছাড়া আর কোন রাজনৈতিক পয়েন্ট নেই, যা নিয়ে তারা নির্বাচনের মাঠে নামতে পারবেন এবং ভোটার জনগণেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন।

এ লেখা যখন লিখছি তখন প্রেসক্লাবে তাদের একটা সমাবেশ চলছিল। সমাবেশ না বলে টেবিল বৈঠক বলাই শ্রেয়। কানে কানে এক বড় নেতা বলছেন, আওয়ামী লীগ জানে নির্বাচন এলে তাদের ভরাডুবি হবে, তাই দলটি সরকারকে দিয়ে দেশব্যাপী নির্যাতন চালাচ্ছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। কথাটা যে মিথ্যা তা তারা নিজেরাও জানে, তবু বলছে। সেই কবে কোন্ এক মিথ্যুক বলেছিল একটা মিথ্যাকে বারবার বলতে থাকলে তা সত্যে পরিণত হয়। বিএনপি নেতারা জানেন না ওই সময় অনেক আগে পার হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি জেনারেশন চলে গেছে। আমরা বাংলাদেশের নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্যাটেলাইট যুগে বসবাস করছি। হাঁটছি উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মহাসড়কে। সামনে উন্নত বাংলাদেশ। শিক্ষার হার এখন ৭২%। এখনকার জেনারেশনকে বোকা বানানো অত সহজ নয়। বানানো যাবে না। মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ফটো ব্যবসায়ী শহিদুল আলমকে নিয়ে নতুন করে মাঠে নেমেছে।

দলটির জন্মই মিথ্যার ওপর। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে একজন আর্মি অফিসার হিসেবে জিয়াকে দিয়ে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীতার ঘোষণা পাঠ করানো হয়। তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা জহুর হোসেন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আবদুল হান্নান প্রমুখ তাকে দিয়ে এ ঘোষণা পাঠ করান। অথচ জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বানিয়ে বিএনপি গঠন করা হলো। অর্থাৎ জন্মটাই মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

দ্বিতীয় মিথ্যা- যিনি ম্যাট্রিক পাস করতে পারেননি তাকে বানালেন দলের ‘চেয়ারপার্সন’, ডাকছেন ‘ম্যাডাম’ বলে। কাকের গায়ে ময়ূরপুচ্ছ লাগানো হলো দুটি ইংরেজী শব্দ দিয়ে।

তৃতীয় মিথ্যা- কোন রকমে ম্যাট্রিক পাস তারেক রহমানকে বাঘা বাঘা নেতাদের ‘ভাইয়া’ ডাকা। এটি নিশ্চয়ই ভয়ে।

চতুর্থ মিথ্যা- যত উন্নয়ন হয়েছে সব করেছে বিএনপি। যদি প্রশ্ন করা হয় একটি দৃশ্যমান উদাহরণ দিন। দিতে পারেন না।

পঞ্চম মিথ্যা- জন্ম মিলিটারি ছাতার নিচে। দাবি করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার।

নির্বাচন এলে বিএনপি অংশ নেয় না, গণতন্ত্রের কথা বলে, নির্বাচন প্রতিরোধ করতে আগুন সন্ত্রাসীদের রাজপথে নামায়, পেট্রোলবোমা মেরে বাস-ট্রেনযাত্রী, রিক্সা-ভ্যানযাত্রী হত্যা করে, কর্তব্যরত পুলিশ হত্যা করে, প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা করে, নির্বাচন ঠেকানোর নামে শত শত প্রাথমিক বিদ্যালয় জ্বালিয়ে ছাই করে। পেট্রোলবোমা মেরে গরু পুড়িয়ে ছাই করে। সংখ্যালঘুরা যাতে ভোট না দেয়, দেশতাগ করে, সে জন্য তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। দেশ অচল করার টার্গেট নিয়ে গাছ কেটে, রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। মানুষ যাতে ভোট কেন্দ্রে না যায়, ভোটদানে বিরত থাকে সে লক্ষ্যে ভয়ভীতি প্রচার-প্রচারণা চালায়। শাপলা চত্বরে বিরাট সমাবেশ ঘটিয়ে গোটা মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, বিজয়নগর, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে। এমনকি বায়তুল মোকাররম বই মার্কেট (বেশিরভাগই ধর্মীয় গ্রন্থ) পুড়িয়ে দেয়া হয়। স্বপ্ন ছিল বঙ্গভবন দখলের উদ্দেশ্যে রাতভর শাপলা চত্বরে রাত কাটিয়ে কাকডাকা ভোরে অভিযান শুরু করবে। ‘একই মায়ের পেটের দুই সহোদর ছাত্রদল-ছাত্রশিবির’ নামিয়ে উল্লেখিত নাশকতা চালানো হয়। খালেদা জিয়া রাজপথে না নামলেও জীগোষ্ঠী ছাত্রদল-শিবিরের ছদ্মবেশে নাশকতা চালায়। বিদেশী কূটনীতিকদের ডেকে এনেও কান্নাকাটি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় প্রেসক্লাবে কাঁথা-বালিশ নিয়ে এসে সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে আস্তানা গাড়ার চেষ্টা করেন। প্রেসক্লাব চত্বরে গণতন্ত্রমঞ্চ স্থাপন করে সরকার উৎখাতের চক্রান্ত করে।

এর আগে ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনার সমাবেশে লাগাতার গ্রেনেড-গুলি হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের গোটা নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত করে, যাতে শেখ হাসিনা আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেলেও তাঁর এক কানের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৩ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে নিহত হন। কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকার প্রথম সরাসরি নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রাজ্জাক, শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গ্রেনেডের স্পিøন্টার দেহে নিয়ে ইন্তেকাল করেন। সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ অফিস চত্বরে ছিল রক্তের বন্যা। যাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছিল এবং যারা এখনও বেঁচে আছেন, কি যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন সে কেবল তারাই জানেন। তখন ক্ষমতায় ছিলেন খালেদা জিয়া। বিচার করা তো দূরের কথা বরং পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটনা (?)।’ এরচেয়ে বড় মিথ্যা আর কাকে বলে।

২০০১-এর নির্বাচনে কারচুপি করে (এক কোটি ২৪ লাখ ভুয়া ভোট) নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে দেশব্যাপী অত্যাচার-নির্যাতন এমন মাত্রায় চালিয়েছিল যে, সংখ্যালঘুদের ওপর তো বটেই, নৌকায় ভোট দেয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়িঘরও জ্বালিয়ে দেয়া। পুকুরের মাছ, গোয়ালের গরু, বনের গাছ-গাছালি লুট, নারী নির্যাতন- কী অত্যাচার না করেছিল, যা বর্ণনারও অতীত। চোখ তুলে ফেলা হয়েছে, হাতের কবজি কেটে ফেলা হয়েছে, কী ভয়ঙ্কর ছিল সেগুলো। যা পাকিস্তানী বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। যার ফলে এখন বাংলার মানুষকে রাজপথে নামাতে পারছেন না তারা। বরং শেখ হাসিনার টার্গেট অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে এবং গত সাড়ে ৪ বছরের অধিককাল শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তথা জাতি-রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন, যা বিশ্বব্যাপী ঈর্ষণীয় এবং রোল মডেল। এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয়, বাসস্থান, অন্ন-বস্ত্র দিয়ে এক মানবিক বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী উপহার দিয়েছেন। তিনি আজ মানবতার মা, Mother of humanity. ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছিল বলে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে। এখন দিনের ২৪ ঘণ্টায় বড়জোর ২-৩ বারে কয়েক মিনিট লোডশেডিং হয়, সব দিন হয়ও না। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, রফতানিও হচ্ছে। মঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, কাহাত, আকাল ইত্যাদি শব্দ এখন ডিকশনারিতে উঠে গেছে, জীবনে নেই। জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ৭-এর ওপরে। মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শিক্ষার হার ৭২%। গড় আয়ু ৭১ বছর। মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ, এবার ৩য় হবে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ। মধ্যম আয়ের দেশ, তারপর উন্নয়নশীল দেশ, তারপর উন্নত বাংলাদেশ-ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সঙ্কট সমাধান, সমুদ্রসীমানা নির্ধারণ, রোহিঙ্গা সঙ্কটের মানবিক ও কূটনৈতিকভাবে মোকাবেলা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। শেখ হাসিনা এখন বিশ্বের ৫ জন সৎ, সফল, সাহসী রাষ্ট্রনেতার মধ্যে ৩য়, তাঁর মতো প্রধানমন্ত্রী যুগে যুগে জন্মায় না। শেখ হাসিনা বিশ্বের ১০ জন ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনেতার অন্যতম।

শেখ হাসিনা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত কিংবা সর্বজনশ্রদ্ধেয় কবি বেগম সুফিয়া কামালের উত্তরসূরি হিসেবে এক এবং অদ্বিতীয়। কেবল যে মেধাবী তা নন, এখনও রাত জেগে পড়েন। পোশাক-আশাকে, কথাবার্তা, আচার-আচরণে, ধর্মাচারে একেবারেই বঙ্গনারী, ধার্মিক সেকুলার মুসলিম।

শেখ হাসিনার প্রতিপক্ষ দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা বিএনপির অলীক কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। লেখাপড়া ছাড়া ব্যবসা করা যায়। তাও আধুনিক ব্যবসা নয়। আধুনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়তে হলে অবশ্যই আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান থাকতে হবে। যে কারণে দেখা যায় খালেদা জিয়ার পরিবার ব্যবসা করতে গিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নেয় এবং আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো। দুর্নীতির দায়ে সাজাও হলো। লেখাপড়া জানলে তিনবারে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে অন্তত একটা হলেও তিনি মনে রাখার মতো উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারতেন। কথাবার্তা বলতেও সাবধান হতে পারতেন। বস্তুত ভদ্র মহিলা জ্ঞানের দীনতার কারণেই অনেক সময় অসংলগ্ন কথা বলে ফেলেন, যেমন ২০০১-এর ইলেকশনের আগে বললেন : আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে, মসজিদে আজান হবে না, উলুধ্বনি হবে, মসজিদে তালা ঝুলবে। আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে টুপি মাথায় দেয়া যাবে না। এ সব ডাহা মিথ্যা জনগণ ধরে ফেলেছে বলেই কাঁদলেও রাস্তায় নামে না।

খালেদা জিয়া আগে যেমন বহুবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, মানুষকে রাজপথে নামাতে পারেননি, এবারও পারবেন না। হ্যাঁ, তবে একটা ব্যাপার ভালই পারেন। এই তো ক’দিন আগে হাইকোর্টের পাশে প্রিজনভ্যান থেকে তিনজন আটক নেতাকর্মীকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল তাদের জঙ্গী কর্মীরা। যেভাবে ২০১৩-১৪ সালে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছিল, এবারও দেখলাম একইভাবে ফ্লাইয়িং কিক মারতে। তবে কি তিনি জঙ্গীদের আবার মাঠে নামালেন? কিন্তু ২০১৩ আর ২০১৮ এক নয়। এরই মধ্যে জামায়াত-শিবির-জঙ্গী ও জঙ্গী সঙ্গীদের শক্তি অনেক কমেছে। গত ৪-৫ বছরে প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতা অনেক বেড়েছে।

সে সময় আমি প্রশ্ন করেছিলাম ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী। তখন কি বাংলাদেশ ভারত হয়েছিল? তখন কি মসজিদে আজান হয়নি? তখন কি উলুধ্বনি হয়েছে? তারপরও এমন কথা বলা মূর্খ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা নয় কি? পাকিস্তান আমলে অর্থাৎ ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময় মুসলিম লীগ ফতোয়া দিয়েছিল আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে বিবি তালাক হয়ে যাবে। মুসলিম লীগ ভেবেছে এটি বললে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে, মুসলিম লীগ মেজরিটি পেয়ে যাবে এবং তরতর করে ক্ষমতায় চলে যাবে। কিন্তু হয়েছে উল্টোটাই, মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়েছে। খালেদা জিয়ারও ভরাডুবি হবে। কিছুদিন আগে খালেদা জিয়া বললেন, জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, কেউ উঠবেন না, রিস্ক আছে। কিন্তু তিনি জানেন না নির্মাণশৈলীই হলো মেগা প্রজেক্টগুলো জোড়া দিয়েই হয়। একটা পার্টের সঙ্গে আরেকটা পার্ট। কিন্তু তালি আসল কিভাবে? এটা হাস্যকর নয় কি? তবে পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল না করার তার আহ্বানের একটা পজিটিভ দিক আছে এবং তা হলো পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হতে হতে বিএনপি নামক দলটির মৃত্যু ঘটবে। তখন খালেদা জিয়া ‘নৌকা’য় চড়বেন।

সম্প্রতি তিনি আরেকটি কথা বলছেন- ‘শেখ হাসিনা দেশের অর্থ খরচ করে দুটি সাবমেরিন কিনে এনেছেন। উদ্বোধনের পর দুটিই ডুবে গেছে।’ এর অর্থ তিনি জানেনই না যে, সাবমেরিন পানির নিচ দিয়ে চলে। ইংরেজী একটা প্রবাদ শুনেছিলাম ‘You can befool all the people for some time; some people for all time, but you can not befool all the people for all the time.’ এই আলোকেই আজকের লেখার শিরোনাম করলাম। এর অর্থ মানুষকে বোকা বানানোর দিন শেষ। বিএনপি কতগুলো মিথ্যা বলে দেশের সব মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানাতে চেয়েছিল। কিছু সময়ের জন্য কিছু মানুষকে বোকা বানাতে পেরেছিলও। কিন্তু সব জেনারেশনকে পারেনি। যেমন সাম্প্রতিককালে দেশে দুটি উল্লেখ করার মতো আন্দোলন হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যখন দেখল বিএনপি এবং তাদের বুদ্ধি-ফড়িয়ারা পেছন থেকে ‘ফুঁ’ দিতে শুরু করেছে তখন আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছেড়েছে। সংবেদনশীল প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বিশ্বাস করেছে। কারও ‘ফুঁ’তে নয়। একটি হলো ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’, আরেকটি ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন।’ আন্দোলন দুটির প্রথমটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এবং নিরাপদ সড়ক চাই একেবারেই শিশু-কিশোরদের আন্দোলন। প্রশ্ন হলো শিশু-কিশোররা যা বুঝছে, পাকা বা কালি মেরে ঢেকে রাখা বুড়ো-বুড়িরা তাও বুঝতে পারে না।

লেখক : সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব ও সিনেট সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত