বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করতে একমত বাংলাদেশ-জাপানঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

996

Published on মে 30, 2019
  • Details Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ এবং জাপান দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে একযোগে কাজ করে যাবার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’র বাসভবনে তাঁর সম্মানে আয়োজিত ভোজ সভায় একথা বলেন।

তাঁরা সহযোগিতার বেশ কিছু নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বিশ্বাস এগুলো আমাদের সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে।’

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৪০তম অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট এসিসটেন্স (ওডিএ) চুক্তি স্বাক্ষরও প্রত্যক্ষ করেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবসময়ই জাপানকে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু এবং সহযোগী হিসেবে পাশে পেয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশে বেশ কতগুলো রূপান্তরিত উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে আমরা সবসময়ই জাপানকে আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু এবং সহযোগী হিসেবে পাশে পেয়েছি।’

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত আন্তরিকতা, সমঝোতা এবং পারষ্পরিক সম্মানজনক পরিবেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এমন জাপানী কোম্পানীর সিইও’দের সঙ্গে তিনি এক বৈঠকে মিলিত হন।

তিনি বলেন, সেই বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করায় তাঁদের আগ্রহ আশাব্যঞ্জক ছিল। তাঁদের সেই আকাঙ্খা আমাদের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দও ভাগাভাগি করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাপানে আসার বিষয়টি তাঁর কাছে আনন্দদায়ক। এ সময় তিনি তাঁর ছোট বোন এবং সবচেয়ে ছোট ভাইকে নিয়ে ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাপান সফরের কথা স্মরণ করেন।

এই সফরে এসে তাঁরা জাপানের জনগণের কাছ থেকে যে ভালবাসা পেয়েছিলেন তা সুখ স্মৃতি হিসেবে সঙ্গে নিয়ে যান, যা আমার মনে দাগ কেটে যায়। তখন থেকে যতবারই আমি জাপান সফরে এসেছি আমি সেই উষ্ণ আতিথেয়তা যা আমার প্রিয়তম পিতা এবং অনুজদের প্রতি দেখানো হয়েছিল তা স্মরণ করেছি।

এ সময় ছোটবেলা থেকেই জাপানের প্রতি ভাললাগা থেকে দেশটির পুতুল, ভিউ কার্ড, স্ট্যাম্প, ক্যালেন্ডার, চিত্রকলা প্রভৃতি ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে সংগ্রহের সুখ স্মৃতি রোমন্থন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জাপানে প্রথম সফর থেকে এই সফর পর্যন্ত যে সুন্দর স্মৃতি এবং উষ্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার আমি পেয়েছি তা আমার অন্তরের অন্তস্থলে সংরক্ষিত থাকবে।’

তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর স্ত্রীকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও নৈশ ভোজে যোগদান করেন।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত