বাংলাদেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনাঃ ডাক ও এক্সপ্রেস বিতরণ শিল্প

139

Published on মে 27, 2020
  • Details Image

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় গৃহিত স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সমন্বয়ের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ কর্তৃক চীন ও অন্যান্য দেশের সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করে 'বাংলাদেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ক্রমান্বয়ে চালু করার সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থাপনা ও পেশার জন্য কারিগরি নির্দেশনা' প্রণয়ন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ডাক ও এক্সপ্রেস বিতরণ শিল্প

কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

১. বন্ধ অবস্থা থেকে কাজ শুরুর পূর্বে মাক্, তরল হাত ধোয়ার সাবান, জীবাণুনাশক দ্রব্য, ইনফ্রারেড থার্মোমিটার এবং মহামারীরোধী দ্রব্যসমূহ সংগ্রহ করুন। জরুরী অবস্থার জন্য কর্মপরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করুন।
২. প্রতিদিন কাজের শুরুতে এবং শেষে ডাক পিয়নের, কুরিয়ারের, পরিবহন চালক এবং মালামাল উঠানামা জন্য নিয়োজিত ব্যক্তির তাপমাত্রা মাপুন। যাদের জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে তাদের সময়মত চিকিৎসা সেবা দিন।
৩. অফিসের ভেতরে বিশেষ করে যেখানে মানুষের চলাচল বেশী সেখানে বাতাস চলাচল ব্যবস্থা জোরদার করুন। যেখানে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে সেখানে এটা নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রতিবার বিশুদ্ধ বাতাস সরবরাহ হয় এবং একই বাতাস বারবার সরবরাহ না হয়।
৪. অফিসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবাণুমুক্ত রাখুন। ময়লা ফেলার সময় অবশ্যই ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়ি ব্যবহার করুন।
৫. গণশৌচাগার সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং অবশ্যই হাত ধোয়ার ব্যবস্থা এবং হাত ধোয়ার সাবান রাখুন।
৬. সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। হাত ধোয়া, হাঁচি দেওয়ার সময় টিস্যু বা কনুই দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে ফেলা সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধির প্রচারনা আরও জোরদার করুন।
৭. সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করুন।
৮. অফিসের অভ্যন্তরের জনসমাগমের জায়গাসমূহ একটু পর পর জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করুন।
৯. স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত জ্ঞান সম্মুখ সারির কর্মচারী এবং অন্যান্য সকল কর্মচারীদের মধ্যে প্রচার করুন। পার্সেল দেওয়া এবং নেওয়ার সময় গ্লাভস এবং মাস্ক খোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি কর্মচারীরাও যাতে অবসর সময়ে একত্রিত না হয়, ধূমপানের সময় কথা না বলে, অধিক মানুষের সংস্পর্শে আসে এমন জিনিস যেমন, দরজার হাতল, লিফটের বোতাম যাতে খালি হাতে না ধরে তা ভালভাবে জানাতে হবে।
১০. লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে ডাকপিয়ন, পরিবহন চালক, মালামাল উঠানামায় নিয়োজিত ব্যাক্তি সবাই কাজের পোশাক, মাস্ক, গ্লাভস এসব ঠিকমতো পরিধান করে কাজ করে।
১১. যারা একদম সরাসরি বাইরের মানুষদের নিয়ে কাজ করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন মাস্ক, গ্লাভস পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহ থাকতে হবে এবং ব্যবহারের নীতিমালা সম্পর্কে জানাতে হবে।
১২. মালামাল আদান-প্রদানের জায়গা ভাল মত জীবাণুনাশক দিয়ে সময়মত পরিষ্কার করতে হবে।
১৩. কোয়ারেন্টাইনের জন্য জায়গা ঠিক করতে হবে। কোন ব্যক্তি যদি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত বলে সন্দেহ হয় তাহলে তাকে আলাদা করে ফেলতে হবে। তার সংস্পর্শে এসেছে এমন ব্যক্তিকেও আলাদা করে ফেলতে হবে অন্যান্যদের থেকে।
১৪. কাগজবিহীন এবং সংস্পর্শবিহীন অফিস ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে হবে।
১৫. ব্যক্তিগত মেলামেশা বা একক্র হওয়া কমাতে হবে এবং একত্র হতে হয় এমন কাজ যেমন মিটিং, ট্রেনিং এসব কাজ সীমিত করে ফেলতে হবে।

মধ্যম এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

১৬. উপরের ১৫টি নিয়ম ছাড়াও নীচের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
১৭. একটা আলাদা ব্যবস্থাপনার জায়গা ঠিক করতে হবে যাতে স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে বক্স আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করা যায়, যাতে করে সরাসরি সংস্পর্শ ছাড়াই কাজ চলতে পারে। আর যেসব জায়গায় স্বংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার সম্ভব নয় তা আলাদা করে ফেলতে হবে।
১৮. নমনীয় কর্মঘন্টা ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে হবে।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত