বঙ্গবন্ধু চত্বর সংলগ্ন এলাকায় পথচারীবান্ধব সড়ক করা হবে

131

Published on ডিসেম্বর 2, 2021
  • Details Image

বঙ্গবন্ধু চত্বর ও চত্বর সংলগ্ন এলাকার অলি-গলি বিবেচনায় নিয়ে পথচারীবান্ধব সড়ক করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।সাপ্তাহিক নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মেয়র করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ি চাপায় নিহত নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের দুর্ঘটনাস্থলে পথচারী পারাপার সেতু (ফুটওভার ব্রিজ) নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে একথা বলেন। 

ঢাদসিক মেয়র বলেন, “কয়েকদিন আগেই নটরডেম কলেজের মেধাবী ছাত্র নাঈম হাসান এখানে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি সিটি করপোরেশনের গাড়ি চাপায় নিহত হয়েছেন। সে জায়গাটা আমরা পরিদর্শন করেছি। এখানে (বঙ্গবন্ধু চত্বর) যদিওবা আগে থেকেই পাতালে (মাটির নিচ দিয়ে) পথচারী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কিন্তু সেই পথচারী পারাপার বিভিন্নভাবে দখলের কারণে অকার্যকর হয়ে আছে। ফলে সাধারণ যাত্রী ও জনগণ নিচে নেমে পারাপার না হয়ে রাস্তার উপর দিয়েই পারাপার হতে বাধ্য হয়। এজন্য আমাদেরকে নতুনভাবে চিন্তা করতে হচ্ছে। তাই পুরো বঙ্গবন্ধু চত্বর ও আশাপাশের অলি-গলি নিয়েই একটা সড়ক পরিকল্পনা করতে হবে, পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে কোনও উদ্যোগই এখানে কার্যকর হবে না। বঙ্গবন্ধু চত্বর ও পুরো এলাকা নিয়েই পথচারীবান্ধব সড়ক পরিকল্পনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

হকাররা পথচারী চলাচলের পথ দখল করে রাখে এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র তাপস বলেন, “যে কোন শহরেরই একটি বড় সমস্যা হাঁটার পথ, রাস্তাগুলো দখল হয়ে যায়। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল ও হকাররা এগুলো দখল করে থাকে। এটাও কিন্তু সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা নিতে হবে। কারণ, আমরা লক্ষ করেছি যে, হকারদের এক দিকে উঠালে তারা নতুন করে আবার জায়গা নিয়ে নেয়। তাদের পূর্নবাসনও কিন্তু চিন্তা করতে হয়। তাকে একটি জায়গা দিতে হবে যেখানে সে উপার্জন করতে পারে। আমরা এগুলো নিয়ে আলাপ করছি। আশা করছি, আগামী বছর থেকে এই বিষয়গুলো খাতিয়ে দেখবো। বিশেষজ্ঞ মহল ও হকার প্রতিনিধি যারা আছেন, তাদেরকে নিয়ে আলাপ করবো। পর্যায়ক্রমে কিছু কিছু রাস্তাকে লাল, সবুজ, হলুদ এভাবে চিহ্নিত করে আমরা দখলমুক্ত করবো।

ময়লাবাহী গাড়ির জন্য চালক সংকট নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ঢাদসিক মেয়র বলেন, “আমরা ৫০ জন ভারী গাড়ি চালকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। ৩২ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। কিন্তু বিআরটিএ থেকে যথাসময়ে লাইসেন্স প্রদান না করার কারণে মাত্র ১৯ জনকে নিয়োগ দেয়া গেছে। আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে (অর্গানোগ্রাম) ১৮৩টি পদ রয়েছে। সেই হিসেবে পর্যাপ্ত গাড়ি চালক নেই। কিন্তু যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেই গাড়িতে আমাদের নিয়মিত গাড়ি চালককেই দায়িত্ব দেয়া ছিল। কিন্তু সেই চালক দায়িত্বে অবহেলা করে, গাফিলতি করে আরেকজন ভাড়াটিয়া চালককে দিয়েই গাড়ি চালিয়েছে। সেটি জঘন্যতম অন্যায় করেছে। এই বিষয়ে এরই মধ্যে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা আরও একজনকে সনাক্ত করেছি, যে তার দায়িত্বে অবহেলা করেছে। তাকেও সাময়িক বরখস্ত করেছি। আমরা কঠোরভাবে এ ধরনের কার্যক্রম দমন করবো।”

এর আগে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস নগরীর ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তবর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র এবং বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নে অংশ হিসেবে মতিঝিলে নির্মিত যাত্রী ছাউনি পরিদর্শন করেন। 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট কামরুল ইসলাম, করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর সিতওয়াত নাঈম, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহমদ, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির উপস্থিত ছিলেন।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত