লবিস্ট নিয়োগের টাকা বিএনপি কোথায় পেল ব্যাখ্যা দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

2075

Published on জানুয়ারি 29, 2022
  • Details Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ আর অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে। বিদেশি ফার্মকে কোটি কোটি ডলার তারা পেমেন্ট করল— এই অর্থ কীভাবে বিদেশে গেল? এটি কোথা থেকে এলো তার জবাব দিতে হবে। এর ব্যাখ্যা তাদের দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অধিবেশনের সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ব্যাখ্যা চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি তো বৈদেশিক মুদ্রা। বিএনপি এই বৈদেশিক মুদ্রা কোথা থেকে পেয়েছে? কীভাবে খরচ করেছে? লবিস্ট নিয়োগ কিসের জন্য? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর জন্য। নির্বাচন বানচাল করার জন্য। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। জঙ্গিবাদকে রক্ষা করার জন্য। জাতির পিতার হত্যাকারীদের রক্ষা করার জন্য। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য। বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে বাধা দেওয়ার জন্য। কোনো ভালো কাজের জন্য নয় লবিস্ট নিয়োগ নয়।’

সরকারের লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। সবসময় পিআর ফার্ম নেওয়া হয়। যেন বিনিয়োগ বাড়ে, উৎপাদন বাড়ে। আমরা যেন বিদেশে বেশি রফতানি করতে পারি তার জন্য। দেশের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য এ সব করা হয়। কিন্তু বিএনপির কাজটি কী ছিল?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের র‌্যাবের কিছু অফিসারের বিরুদ্ধে আমেরিকা স্যাঙ্কশন দিয়েছে। যদি বলি কাদের ওপর? এখন আমাদের বর্তমান আইজিপি, তখন র‌্যাবের ডিজি ছিলেন। হোলি আর্টিজানে যখন সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে। মানুষ হত্যা করে। নৃশংস দৃশ্য! তারা কেবল হত্যাই করেনি, ছুরি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে মানুষ মেরেছে। হত্যার পরে বাবুর্চিকে জিম্মি করে বড় বড় চিংড়ি মাছ থেকে শুরু করে সব রান্না করে খেয়েছে। কী রকম বিকৃতমনা ছিল তারা। পুলিশের দুইজন অফিসার সেখানে ছুটে গেলে তাদের গুলি করে মেরে ফেলে। আমরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার পদক্ষেপ নিই। সেই সময় আমেরিকার যিনি রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি টুইট করেছিলেন— হলি আর্টিজেনের সন্ত্রাসী হামলা বাংলাদেশ একা সমাধান করতে পারবে না। ওইদিন রোজার দিন ছিলো। সারারাত আমরা কাজ করেছি। সেহেরির সময় পর্যন্ত আমি বৈঠক করি। সবাইকে নিয়ে মিটিং করি। কী করা হবে। কীভাবে অপারেশন চালানো হবে। তার পূর্ণ পরিকল্পনা করেছি। পরের দিন সকাল ৯টার মধ্যে জিম্মিদের উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সফলতার সঙ্গে তাদের আক্রমণ মোকাবিলা করি। এরপরপরই আমেরিকার অ্যাম্বাসেডর টুইটটি সরিয়ে ফেলেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে আর সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমন করেছি। যা বিএনপির সৃষ্টি। যাদের মদদ দিয়েছে প্রশ্ন হচ্ছে- যাদেরকে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) স্যাঙ্কশন দিলো তাদের অধিকাংশ এই সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রেখেছিল। তাহলে এরা কেন আমেরিকার কাছে এত খারাপ হলো? সব থেকে ভালো ভালো অফিসার যারা। ওই অপারেশনে যারা ছিল। আমার মনে হয় যারা সন্ত্রাস দমনে সফল, যারা দেশটা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। যারা সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সুসংহত করেছে তাদেরও ওপরেই যেন আমেরিকার রাগ। আমি আমেরিকাকে দোষ দেই না। ঘরের ইঁদুর বাধ কাটলে কাকে দোষ দেব?’

অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমাদের তখনকার সংসদ সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করেছিল। সেই হত্যার সঙ্গেও বিএনপি জড়িত, সেটিও বেরিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, এর বিচারের কাজটি বারবার বাধা দিচ্ছে তার পরিবার থেকে। যখনই বিচারের কাজটি ‍শুরু হয় তখনই তার পরিবার বাধা দিয়ে রাখে। কেন ঠিক জানি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা দুইবোন রিফিউজি হিসেবে ৬ বছর বাস করেছি। নাম-পরিচয়টাও ব্যবহার করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল- সুযোগ পেলে দেশকে গড়ে তুলব। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে যেন দেশে ফিরি। অনেক বাধাবিপত্তি, অনেক অপপ্রচার শুনতে হয়েছে। লক্ষ্য স্থির করে চলেছি বলে আজকে লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনায় আমেরিকার আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ দারিদ্র্যসীমার নিচে যায়নি। বরং দারিদ্র্য বিমোচনের হার বিএনপির আমলের ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বিশ্বাস করি, আমরা আরও কমাতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সীমিত অর্থনীতির মধ্যেও আমরা বিনা পয়সায় করোনার পরীক্ষা করাচ্ছি। প্রায় ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা লাগে এক একটি করোনার পরীক্ষার জন্য। পাশাপাশি বিনা পয়সায় আমরা ভ্যাকসিনও দিচ্ছি। আমরা ভ্যাকসিনের জন্য আলাদা বাজেট দিয়েছি। ভ্যাকসিনের অভাব হবে না। যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তারা নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে মারা যাচ্ছে না।

দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই ভ্যাকসিন নেবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলবেন যেন ওমিক্রন থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারি।’

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত