পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়নি, বিশ্বব্যাংক সরে গেছে রাজনৈতিক কারণে

1486

Published on জুন 24, 2022
  • Details Image

ড. আইনুন নিশাতঃ

আমি ক্লাইমেন্ট চেঞ্জে বিষয়ে যে বৈশ্বিক আলোচনা তাতে বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করি। আমার জন্ম বরিশালে। বরিশালকে প্রাচ্যের ভেনিস বলা হতো। শহরের খাল দিয়ে বড় বড় নৌকা চলত, সেটা আমি নিজে দেখছি। সত্যিই আমি এ শহরকে ছোটবেলায় ভেনিসের মতো দেখেছি। নবগ্রাম রোড-বটতলা যে রাস্তা এখন, ছোটবেলায় বড় বড় নৌকা দেখেছি। এখন কংক্রিটের ফুটপাত। কালিবাড়ি রোডে বাসা ছিল। পাশে বিরাট খাল ছিল। বড় বড় নৌকা চলত। যৌবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কালিবাড়ি রোডে তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে আসতেন। আমরা পাশের বাসায় থাকতাম। এ শহরকে এখন ভেনিস বানানো যাবে না। কারণ খালগুলো বন্ধ। তবে অজয় দাশগুপ্ত পর্যটনের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। এ জন্য অনেক কিছু করা যাবে। পদ্মা সেতু এমন অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। অতীতে বরিশাল শহর কোনো দিন বন্যার পানিতে ডুবত না। এখন জোয়ারের পানিতে শহরের প্রধান রাস্তায় পূর্ণিমা-অমাবশ্যায় রাস্তা তলিয়ে যায়।

যমুনা ও পদ্মা সেতু বানানোর সময় বিশ্বব্যাংক জড়িত ছিল। যমুনা সেতুতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা ছিল। পদ্মা সেতুতে শুরুতে ছিল, মাঝপথে পিছটান দেয়। পরে অদ্ভূত কারণ দেখিয়ে সরে গেছে। পরবর্তীতে বুঝেছে, সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। বিশ্বব্যাংকের ঢাকাতে যিনি প্রতিনিধি ছিলেন, তিনি অনেক চেষ্টা করেছেন যাতে এ ভুল সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাংক পরিবর্তন করে উল্টে দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংক চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। আমি পদ্মা ও যমুনা প্যানেল অব এক্সপার্টের সদস্য। নদী শাসনের বিষয়টা মূলত আমার দায়িত্বে ছিল।

এ ধরনের বড় প্রকল্পে অনেক পক্ষ- মালিক বা বাংলাদেশ সরকার, তৃতীয় পক্ষ হচ্ছে ঠিকাদার। দ্বিতীয় পক্ষ কনসালট্যান্ট। ঠিকাদারের ক্ষমতা মালিক পক্ষ থেকে বেশি। সামান্য কিছু পরিবর্তন হলেই ঠিকাদার বাড়তি অর্থ দাবি করে। যমুনা সেতুতে দেখেছি নদী শাসনের কাজে ঠিকাদার দলের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার, সাথে আইনের ডিগ্রি। ডেপুটি আইনের লোক, কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছিল। এটা দরকার। বাংলাদেশে দেশীয় ঠিকাদারদের এটা নেই। আমি ও অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এ সব জেনে অবাক হয়েছি।

সরকারকে সাহায্য করার জন্য ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট থাকে। সবার ওপরে প্যানেল অব এক্সপার্ট। নিরপেক্ষদের নিয়ে আসে এ দলে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি বড় এর প্রস্তাব করে, সরকার গ্রহণ করে।

কাজ করতে গেলে ডিজাইন বদলাতে হয়। পদ্মা সেতুর ডিজাইন মাস দুয়েক আগেও বদল করেছি। পদ্মা সেতুর শুধু সেতু অংশ শেষ হয়েছে। নদী শাসন শেষ করতে আরও বছর খানেক লাগবে। রেল পথ শেষ। পদ্মা হচ্ছে বিশেষ ধরনের নদী। যমুনা সেতু তৈরি না হলে পদ্মা সেতুর কথা ভাবতে পারতাম না। এ অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে। আমার পিএইচডি রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। বলতে পারেন আমি নদীর ডাক্তার। পদ্মা অত্যন্ত অত্যন্ত অত্যন্ত শক্তিশালী নদী। ভেলোসিটি সাড়ে চার মিটার প্রতি সেকেন্ড। কী তীব্র স্রোত। চীনা ঠিকাদার যখন প্রথম অনেক বার্জ নিয়ে আসে, স্ট্রিলের তার ছিড়ে বার্জ ভেসে যায়। বর্ষায় ফেরি মাঝে মাঝে ঘাটে ভিড়তে পারে না। টিভিতে সাংবাদিকরা মাঝে মাঝে ভুল প্রশ্ন করে। তারা বলে দ্বিতীয় শক্তিশালী নদী, না এটা প্রথম শক্তিশালী নদী। নদীর প্রশস্ততার ভিত্তিতে পদ্মা প্রথম নদী।

আমাদের দেশে একাধিক নদীর নাম যমুনা। তবে মূল যমুনার আসল নাম ব্রহ্মপুত্র। অনেক নদীর নাম বেশ রোমান্টিক- ময়ূর, ধাসিঁসিড়ি। আগুনগুখো। পায়রা। আবার ইছামতি নামে ১২-১৩ টা নদী। ব্রহ্মপুত্র পৃথিবীর ৫-৭ টা বড় নদীর একটি। আরিচা পর্যন্ত পদ্মা, আসলে গঙ্গা। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি সাধারণত একসঙ্গে বাড়ে না। যদি একসঙ্গে বাড়ে, ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে। ব্রহ্মপুত্র সিরাজগঞ্জের কাছে প্রশস্ত ১৪-১৫ কিলোমিটার। গঙ্গা রাজশাহী শহরের কাছে প্রশস্ত ৪ থেকে ৬ কিলোমিটার। এই ১৪ ও ৬ কিলোমিটারের পানি আরিচায় মোটামুটি একক চ্যানেলে মিলিত হয়। আরিচার ওপারে দৌলতদিয়া, ৫-৬ কিলোমিটার। এ নদীটা মাওয়াতে যখন যায় পাশে দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার। প্রচণ্ড গভীর। শীতের সময় এর গভীরতা ৮০-১০০ মিটার। বর্ষায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই গভীরতায় সেতুর ভিত্তি প্রস্তর নির্মাণ পৃথিবীতে করা হয় নাই। আমাদের নদীর তলদেশে পাথর নেই। সব লুজ মাটি, বালু ও পলিমাটি। পাড় ভাঙতে পারে। তলদেশ সড়ে যেতে পারে। মাওয়া কেন সিলেক্ট করেছি? হয়ত কয়েক লক্ষ বছর আগে মাওয়ায় সুন্দরবনের মতো বন ছিল, যার গাছ পড়ে পড়ে রকি লেয়ার হয়েছে। গাছের গুড়ি আছে। এর সুবিধা নিয়েছি স্থান নির্বাচনে।

যমুনায় সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক বলছিল- এ সেতুর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নেই। আমরা অনুসন্ধানী জাহাজে ভুয়াপুর থেকে সিরাজগঞ্জ যাই। ঝড়ো আবহাওয়া। আমেরিকান বিশেষজ্ঞ ছিল সঙ্গে। তিনি বলেন- নদী এত খরস্রোতা কীভাবে হয়? পদ্মার স্রোত দেখলে তিনি কী বলতেন? সিদ্ধান্ত হয়ত দিতেন- এখানে সেতু নির্মাণ সম্ভব নয়। অজয় দাশগুপ্ত বলেছেন- নদী মেনে নিতে হয়। যমুনায় নদী শাসন করেছি। পদ্মায় দুই-আড়াই কিলোমিটারের চ্যানেলে আমরা যখন পদ্মায় সেতু নির্মাণ শুরু করি- সেতু মাওয়া ঘেষে যেত। এখন এক কিলোমিটার সরে গেছে। নদী পশ্চিম দিকে যাচ্ছে। চরজানাজাত ১০-১২ কিলোমিটার লম্বা, পাশে ২-৩ কিমি। ২-৩ বছর পর নাও থাকতে পারে। আমরা পদ্মার দেড়শ-দু’বছর শত বছরের ইতিহাস দেখেছি- ১২ বছরের মধ্যে ৬ কিলোমিটার এদিক ওদিক সরে যায়। আমরা ৩ কিলোমিটার সেতু বানাতে পারতাম। তবে সেটা বিপজ্জনক হতো। নদী এটা মানত না। যমুনায় নদী সংকুচিত করা হয়নি। ওই সেতু ৪.৮ কিলোমিটার, নদীর নিয়ম মেনে।

পদ্মা সেতুর দৈঘ্য কত? এটা হচ্ছে ৯.১৫ কিলামিটার। সংবাদপত্রে ভুল লেখা হয়- ৬.১৫ কিলোমিটার। নেভিগেসন চ্যানেল মিলে আরও তিন কিলোমিটার। নদী সরে গেলেও সমস্যা হবে না। নৌযান যেন সারা বছর চলতে পারে, বর্ষার পানিতে যেন সমস্যা না হয়- সে ব্যবস্থা আছে। আসামে-অরুণাচলে বৃষ্টি বাড়বে। এখন মেঘালয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। ২০ বছর ধরে এটা বলছি। ১০ বছর আগে সুনামগঞ্জে এ ধরনের বন্যা দেখেছি। হঠাৎ প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।

যমুনায় নদী ঠিক রাখতে হয়েছে। নদীর সঙ্গে কথা বলেন, বলবে- সেতু দেখলেই নদী সেতুকে পাশ কাটিয়ে যেতে চায়। নদী বলবে, আমাকে বেঁধো না। হার্ডিঞ্জ নির্মাণের নদী শাসন কৌশল আমরা কাজে লাগিয়েছি যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ ও নদী শাসনে। পাড় বাঁধিয়েছি। কাজ কঠিন ছিল। বিশ্বে এ জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেজার ছিল না। আমরা ডিজাইনে পরিবর্তন এনেছি। এখন পর্যন্ত আমাদের প্রযুক্তি কাজ দিয়েছে। এটা অভিজ্ঞতা পদ্মায় কাজ দিয়েছে। নদী যেন শান্ত থাকে, সে জন্য এখনও কাজ করতে হয়।

পদ্মা হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মার যোগফল। হার্ডিঞ্জ ও লালন সেতুর শক্তির দ্বিগুণ শক্তি পদ্মার মাওয়া পয়েন্ট। ফাউন্ডেশন ডিজাইন পাশে ১০ মিটার। পাইল পিটিয়ে নিচে ঢুকাতে হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যামার আনা হয়েছে। ১০০ টন- ২২০০ টন, ২৫০০ টন- পরে ৩০০০ টন হ্যামার। হ্যামার দিয়ে স্টিলের পাইল পিটিয়ে নিচে নামানো হয়েছে। প্রচণ্ড শব্দ হয়। কিন্তু শব্দে তো নদীর ইলিশ মাছ রাগতে পারে। শব্দ কম রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নির্দেশ- বিশ্বব্যাংক পরিবেশ বিষয়ে, সেতুর মানের বিষয়ে যে পরামর্শ দিয়েছে তা যেন মেনে চলা হয়। পরে যেন বলতে না পারে- আমরা থাকলে এমন হতো না। তোমরা পারোনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন, সেজন্য কৃতজ্ঞ। এই যে হ্যামার দিয়ে পাইল পেটানো হলো- হঠাৎ মাটি পরীক্ষা করে মিলল ক্লে লেয়ার। অথচ সেখানেই পাইল বসাতে হবে। ডিজাইন বদলাতে হতো। ৬ টির পরিবর্তে ৭ টি পাইল বসাতে হয়। এ জন্য দুই বছর বিতর্ক চলে, ঝগড়া হয়। সময় বেশি লাগে।

ইন্টারন্যাল রেট অব রিটার্ন গুরুত্বপূর্ণ। যমুনায় সেতুর সময় এই হার কিছুতেই ১২ পার্সেন্ট হয় না। অথচ এটা না হলে বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে না। উত্তরাঞ্চলে বিশ্বব্যাংকের দুইজন ভাইসপ্রেসিডেন্ট, সঙ্গে আমি ও জামিলুর রেজা চৌধুরী। ফেরি ঘাটে ৮-১০ কিলোমিটার লাইন। ট্রাকের চালককে জিজ্ঞেস করি- কতদিন লাইনে- উত্তর- তিন দিন। আরও দুই দিন লাগবে ওপারে যেতে। বগুড়ায় জিজ্ঞেস করি যমুনা সেতু হলে লাভ কি? একজন ব্যবসায়ী উত্তর দেন- বাংলাদেশে তাড়াতাড়ি যেতে পারব। তার কাছে, রংপুরের লোকের কাছে ঢাকা হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক এটা মেনে যমুনা সেতুতে অর্থ দিতে রাজী হয়েছে।

এ অভিজ্ঞতা পদ্মায় কাজে লাগিয়েছি। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল সরকারের। কমপ্লিট ডিজাইন-ড্রয়িং করেছি। আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডারে কোয়ালিফাই কঠিন কাজ। পদ্মা সেতুর প্রতিটি ধাপে কাজ করেছি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কেন গোলমাল বাধল? বিশ্বব্যাংক জামিলুর রেজা চৌধুরী (দলনেতা) ও আমার এমনকি খসড়া কাগজও নিয়ে গেছে। তারা বলেছে- সব ঠিক আছে। বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি রাজনৈতিক কারণে সরে গেছে। আমাদের স্বাক্ষরে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে আমি করেছি, জামিলুর রেজা চৌধুরী করেছেন। কারণ আমি ও জামিলুর রেজা চৌধুরী যে হিসাব করেছি- সেটা তাদের দিয়েছি এবং সেভাবেই অনুমোদন হয়েছে। আমি জানি, আমরা দুর্নীতি করিনি। আমরা এ অন্যায় করিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন জানতে চান- কারা পদ্মা সেতুর বিভিন্ন পর্যায়ের হিসাব করেছে, যখন তাকে জানান হয়- জামিলুর রেজা চৌধুরী ও আমি করেছি- তিনি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় শক্ত অবস্থান নেন। এ শক্ত অবস্থান বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিরাট প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যতেও ফেলবে। আমি ঋণদাতাদের ‘সাহায্যদাতা’ বলি না। ‘দাতারা’ সরকারকে বিশ্বাস করে না।

আমরা পদ্মা সেতুতে সবর্শেষ প্রযুক্তি গ্রহণ করেছি। নদী শাসন, সেতু নির্মাণ সব ক্ষেত্রেই এটা হয়েছে। ৫ টা কন্ট্রাক্ট ছিল। বড় কাজগুলি আমরা তদারক করেছি। বড় প্রকল্প করতে গেলে সব ধাপ মেনে ১০-১২ বছর লেগে যায়। আমরা অনেক কাজ এক সঙ্গে শুরু করেছি। সমান্তরালে কাজ করায় সময় কম লেগেছে। বিশ্বব্যাংকের পথে চললে সময় বেশি লাগত।

ইলিশ মাছের চলাচল বিবেচনায় নিয়েছি। মাছের প্রজননের মৌসুমে কাজ বন্ধ রেখেছি। একটি চরে লাখ খানেক কচ্ছপ ডিপ পাড়ে- এমন অভিযোগ করে একটি আমেরিকান এনজিও। অথচ বাংলাদেশ থেকে এ অভিযোগ কেউ করেনি। আবার বিশ্বব্যাংক ওয়াশিংটন থেকে প্রতিনিধি পাঠায়। তাদের নিয়ে চরে যাই। এ সমস্যার সমাধান হয়। আমরা কোয়ালিটি কন্ট্রোল কঠোরভাবে মেনে চলেছি। নদীতে বালু ভর্তি। পদ্মায় বালু আছে। কিন্তু ভাল মানের বালু আনতে হয়েছে অন্য স্থান থেকে।

এ সেতু সম্ভাবনার। ২১ জেলা উন্নত হবে শিল্পে। ভোলায় প্রচুর গ্যাস আছে। বাংলাদেশের সিরামিকস ভাল কেন? এটা গ্যাসে পোড়ানো হয়, যা অনেক দেশে হয় না। ভোলার গ্যাস বরিশালে আনার জন্য নতুন সেতুর কাজ হচ্ছে। পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের পর সাহস বেড়েছে। মিঠা পানির সরবরাহ ভবিষ্যতে বড় সমস্যা হবে। সমুদ্র অনেক এলাকা গ্রাস করতে পারে।

ভারতের সঙ্গে কানেকটিভিটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটা পারস্পরিক হতে হবে। পদ্মা সেতুতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আলাদা। গ্যাস ও ইন্টারনেট সুবিধা সেতুতে রয়েছে। পদ্মা-গঙ্গার নিয়মিত ড্রেজিং করা চাই। নৌ চলাচল নিশ্চিত করা চাই। পদ্মা সেতু করার সময় অনেক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েছি। কী কী করতে হবে, জানা আছে। সমন্বয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাকে বলেছি তাঁর পদক্ষেপ যেন মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক না হয়- দেশকেন্দ্রিক হয়।

অজয় দাশগুপ্ত সকালে গৈলা (আগৈলঝাড়া) থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় অফিস করতে চান, রাতে ঘুমাতে চান নিজের বাড়িতে। এমন স্বপ্ন অনেকের। এটা এখন বাস্তব।

লেখকঃ পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ এবং ইমেরিটাস অধ্যাপক

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত