খালেদা সরকারের নির্দেশ: বিএনপির কোপে আহত শতাধিক রোগীকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে

603

Published on অক্টোবর 1, 2022
  • Details Image

২০০১ সালে সরকার গঠনের পর বিএনপি-জামায়াত সরকারের নির্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শতাধিক রোগীকে তাড়িয়ে দেয় বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা। গুরুতর আহত রোগীদের ওপর গুণ্ডাদের তাণ্ডব থামাতে গেলে সাধারণ চিকিৎসকদের ওপরও হামলা চালায় তারা। বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার শিকার হয়ে, হাত-পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে, সেসময় শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। উন্নত চিকিৎসা নিয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিনই হাসপাতালে আসছিলেন অনেক আহত আওয়ামী সমর্থক। ২০ নভেম্বর হুট করেই এজন্য বর্হিবিভাগ ও জরুরি বিভাগে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে হাসপাতাল খালি করে সেখানে কর্মরত দেয় বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা।

২১ নভেম্বর সংবাদ এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা যায়। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনে জেতার পর প্রতিটি জেলা-উপজেলায় আওয়ামী নেতাকর্মীদের লাশ ফেলতে শুরু করে বিএনপি-জামায়াত। এমনকি আওয়ামী সমর্থকদের বাড়িঘর লুটপাট, চাঁদাবাজি, নারীদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণে মেতে ওঠে তারা। ক্ষমতায় যাওয়ার দেড় মাসের মধ্যে শতাধিক মানুষ হত্যা এবং কয়েক হাজার মানুষকে পঙ্গু করে দেয় তারা।

নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ পর এ বিষয়ে ঢাকার বড় হাসপাতালগুলো ঘুরে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক সংবাদ পত্রিকা। ১৬ অক্টোবরের সেই প্রতিবেদনে জানানো হয়- বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার শিকার হয়ে আঙ্গুল, হাত-পা হারিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন অজস্র মানুষ। নতুন করে লোক ভর্তি করার মতো জায়গা নেই আর।

সেসময় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে ভর্তি ঢাকা মহানগর ৩০ নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি আবদুল বাসিত জানান, ৯ অক্টোবর বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়। থানায় মামলা দিতে গেলেও নেয়নি পুলিশ।

গফরগাঁওয়ের কামরুজ্জামান বলেন, ৩ অক্টোবর বিএনপির সন্ত্রাসীরা তার দুই হাতের সবগুলো আঙ্গুল কেটে নিয়ে গেছে।

সিলেটের মীর বাজারের তামিম জানান, তিনি মীরাবাজার হাইস্কুলে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট ছিলেন। ভুয়া ভোট চ্যালেঞ্জ করায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা নির্বাচনের পরের দিন তার ওপর হামলা চালায়। তার একটি হাত, একটি পা ভেঙে দেয় এবং একটি হাতের রগ কেটে দেয়।

সুজানগর সাতবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, নির্বাচনে তিনি যেন আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ না করতে পারেন এজন্য বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা ভোটের আগেই তার পায়ের রগ কেটে দিয়েছে।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার হাবিবুর রহমান জিতু বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর অতর্কিত বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা করে দুই পা ভেঙে দিয়েছে।

নোয়াখালির বেগমগঞ্জের প্রফুল্ল কুমার দেবনাথকে নৌকায় ভোট দেওয়ার কারণে নির্বাচনের দিন সন্ধ্যাতেই বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা মেরে দুই পা ভেঙে দেয়। টঙ্গির শান্তি জানান, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করার কারণে ৪ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা তার দুই হাত কেটে নেয়।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন ডাক্তার বিজয় দত্ত, পটুয়াখালির আলী আকবর ও সন্দীপের ফোরকান উদ্দীনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। ৪ অক্টোবর বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিক্যাল থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে হত্যার চেষ্টা করে ড. বিজয়কে। পরে তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালের নিউরোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বিএনপির ডাক্তাররা সেখানে আবারো হামলা চালায় তার ওপর। এরপর বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে পাঠানো হয় তাকে।

বিএনপি-জামায়াতের হামলায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে হাত-পা ভাঙা অবস্থায় আরও পাওয়া যায় আওয়ামী লীগ কর্মী শরীয়তপুরের সিরাজ, স্বরূপকাঠির চুনু, মাদারীপুরের শিবচরের মোশাররফ, শৈল কুপার বোরহানউদ্দীন, ঘাটা-ইলের আরিফসহ আরো অনেককে। বিএনপি-জামায়াতের কোপে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তারা।

বিএনপি নির্বাচনে জেতা মানেই দেশেজুড়ে রক্তের বন্যা বয়ে যাওয়া। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই লাশের মিছিল, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই চিকিৎসার অভাবে হাজার হাজার মানুষের আজীবন পঙ্গুত্ব। নির্যাতনের শিকার ও চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে পঙ্গুত্ব বহন করে বেড়ানো মানুষগুলোর দীর্ঘশ্বাসে আজও অভিশাপ ভেসে ওঠে!

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত