বিএনপির আন্দোলনের ইস্যু কি; লক্ষ্য কি?

1135

Published on অক্টোবর 3, 2022
  • Details Image

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি; যে দলটি নিজেদেরকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের সমন্বয়ে গড়া সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন বলে দাবি করে। যদিও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে ফলাফল তাদের দাবির পক্ষে কথা বলে না। বাংলাদেশকে তারা কী দিয়েছে বা কী দিতে সক্ষম, তার অতীত ইতিহাস জাতি জানে। তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে কী ঘটতে পারে, সেটা ভেবে শিউরে ওঠেন সবাই। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও খুনিদের সমন্বয়ে গড়া দলটির শীর্ষ দুই নেতাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুপযুক্ত বলে সাব্যস্ত হয়েছে। এমন অবস্থায় দিক-নির্দেশনা ও নেতৃত্বহীন দলটি রাজপথ গরম করার চেষ্টা করছে কিছু অদ্ভূত দাবি-দাওয়া নিয়ে। যেসব দাবির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। কেন নেই, আসুন একটু বিশ্লেষণ করা যাক।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সন্নিকটে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই দলের দুই শীর্ষ নেতা- খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান। ফলে নেতা-কর্মীরা বিএনপির অন্ধকার ভবিষ্যত সম্পর্কে একরকম নিশ্চিত। এই দুজন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তৃতীয় প্রধান হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলকে টিকিয়ে রাখতে চান কয়েকটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে। যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় এবং জয়লাভ করে তবে মির্জ ফখরুলের নেতৃত্বই সরকার গঠন হবে- এমন স্বপ্নে বিভোর তার অনুসারীরা। এছাড়া সরকারবিরোধী যেসব দল রাজপথে জড়ো হচ্ছে, তাদের লোকবল কম বলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাঁধে চেপে আন্দোলন জোরদার করতে চায়। এমন বিবিধ উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপি এখন রাজপথে- এটাই আসল কথা। তারেক রহমান লন্ডন থেকে নিয়মিত ওহি নাজিল করছেন আর সেসব অনুসরণ করছে দল।

তবে রাজপথে থাকতে হলে, জনগণের কাছে নিজেদের অস্তিত্ব তুলে ধরতে কিছু দাবি-দাওয়া তো দেখাতে হয়। তাই তারা হাজির করেছে কিছু উদ্ভট শর্ত। যার মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনে অংশ নিবো না, ইভিএম মানি না, সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দিতে হবে... ইত্যাদি।

বিএনপির এই দাবিগুলোর গভীরতা বুঝতে অক্ষম তাদের সমর্থকরা। বুঝলে দলের নীতি-নির্ধারকদের নিশ্চয় উপযুক্ত জবাব দিতে পারতেন তারা। কারণ, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় প্রবর্তিত হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। এই শাসনব্যবস্থার অপপ্রয়োগ রাষ্ট্রকে কতটা ধ্বংসের মুখে নিয়ে গিয়েছিল, তার দগদগে ঘা সবার মানসপটে আজও তাজা। তাই ২০১১ সালের ১০ই মে সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেয়। এছাড়াও সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এ সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করা হয়। এটা একটা মিমাংসিত বিষয় হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি বারবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়। কারণ তাহলে আবারও একটা অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিদেশি অপশক্তির ক্রীড়নকরা রাষ্ট্রের কাঁধের ওপর সিন্দাবাদের ভূতের মত সওয়ার হতে পারবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণীত হয় সিলেকশনের মাধ্যমে; ইলেকশনের মাধ্যমে নয়। এই ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িতরা যথেচ্ছাচার ঘটানোর সুযোগ পায়। যা ওয়ান-ইলেভেনে ঘটেছিল। মাইনাস ফমূর্লা, ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীকে দিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে শাস্তি দেওয়ার অপচেষ্টা, কারাগারে তাকে বিষ খাওয়ানোসহ দেশের শাসনভার অগণতান্ত্রিক উপায়ে কুক্ষিগত করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করার ষোলকলা প্রায় পূর্ণ করে ফেলা হয়েছিল। রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতাহীন এবং রাজনৈতিক জ্ঞানশূন্য উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গড়া এই ফর্মুলেটেড সরকার ব্যবস্থা এ কারণেই বাতিল করে আদালত। সাংবিধানিকভাবে এমন অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট সরকার ব্যবস্থা যেন প্রণীত না হয়, সেজন্য স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। বিশ্বের কোথাও এমন পদ্ধতি স্বীকৃত নয়।

এই মীমাংসিত বিষয়টিকে কবর থেকে কোন উদ্দেশ্যে বিএনপি তুলে এনে কাকতাড়ুয়ার মত দাঁড় করিয়ে দিতে চায় রাজনৈতিক অঙ্গনে, সেটা বুঝতে রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই। মূলত নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করতে এবং পেছনের দরজা দিয়ে নির্বাচন ছাড়াই নিজেদের স্টেক হোল্ডারদের সাথে নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বুঁদ বিএনপি। কোনোমতে ছল-চাতুরির মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে পারলেই খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের মত দুই শীর্ষ অপরাধীকে মুক্ত করা যাবে- এই আশাতেই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি করছে। জনগণের কিংবা দেশের স্বার্থে নয়।

রাজপথে বিএনপির আরেকটি মজাদার দাবি হচ্ছে, খালেদা জিয়ার কারামুক্তি! খালেদা জিয়ার বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নানান হম্বিতম্বি শোনা গেছে। দেশটাকে লণ্ডভণ্ড করে ফেলবেন তারা, এমন হুমকি-ধমকিও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আদালতের রায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে আজ অব্দি বিএনপি একটা ফলপ্রসূ আন্দোলনের ঢেউ তুলতে পারেনি। মাঝে মাঝে পল্টন কার্যালয়ের সামনে দুপুরের খাবারের পর প্রতীকী ২ ঘণ্টার অনশন, কামরাঙ্গীর চরের কোনো নারী কর্মীকে গোলাপি শাড়ি পরিয়ে খালেদা জিয়া সাজিয়ে, নাকে-মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে শোভাযাত্রা, বিকেলে মাইকের সামনে গরমাগরম বক্তব্য প্রদানের সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনে দৌড়ে পালানো কর্মসূচি ছাড়া আর কিছুই দৃশ্যমান ছিল না।

তবে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের আর্জি শুনে দয়াপরবশ হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্সিকিউটিভ পাওয়ার ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে আপনজনদের সান্নিধ্যে থেকে বাড়িতে সাজা ভোগ করার সুযোগের পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে বাড়িতে থাকার শর্তে সাজা স্থগিতের অন্তবর্তীকালীন সুযোগও দিয়েছেন। এত সুযোগ-সুবিধা বাংলাদেশ দূরের কথা বিশ্বের ইতিহাসে কোনো অপরাধীই পাননি। যে খালেদা জিয়া, তার পুত্র ও দল শেখ হাসিনাকে হত্যার বহুবার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছেন, সেই খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ উদারতা দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবুও বিএনপি নেতাদের দাবি, খালেদা জিয়া নাকি ষড়যন্ত্রের শিকার, তাই তাকে মুক্ত করতে হবে!

বিএনপির নেতা-কর্মীরা আজকাল তাই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আহুত সমাবেশে আসতে চান না। জনপ্রতি ৫০০ টাকা হাজিরা এবং এক প্যাকেট বিরানীর চুক্তিতে বিকেল বেলা নিজ নিজ স্থানীয় নেতাদের তত্ত্বাবধানে হাজির হন পল্টনে। অর্থের বিনিময়ে হাজিরা দেন, স্লোগান দেন, ছবি বা ভিডিওতে উপস্থিতির প্রমাণ রেখে বিরানী খেয়ে নেতার নামে জয়ধ্বনি দেন।

বিএনপি কর্মীরা অনেক সময় জানেও না, কেন তারা রাজপথে হাজির হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায় তাদের বিভিন্ন রকম বক্তব্য। দেশ যখন শান্তিতে আছে, তখন রাজপথে কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তারা আগ-পিছ চিন্তা না করেই মুখস্ত বুলি ঝাড়েন- দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম... ইত্যাদি বেশ কিছু চটকদার কথা। অথচ বিএনপির সর্বশেষ এক মাসের এজেন্ডাতে এমন বক্তব্য শোনা যায়নি। তার আগে শোনা যেত। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশ্ববাজারের মন্দাভাব, যুদ্ধ পরিস্থিতি এসব নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ কিছুটা বিভ্রান্ত ছিল, তখন বিএনপি এসবের পেছনে সরকারকে দায়ী করে মিথ্যাচার করেছিল। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশে মানুষ যখন আস্তে আস্তে পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পেরে মিথ্যাচারের জন্য বিএনপিকে ধিক্কার জানাতে শুরু করে, তখনই ভোল বদলান নেতারা।

এখন 'ভোটে যাব না, সরকারের পতন চাই, ক্ষমতা হস্তান্তর করো'- বুলি ছাড়া আর কোনো বক্তব্য নাই বিএনপি নেতাদের মুখে। তবে কর্মীরাও নিশ্চিত না, নেতারা আসলে কী চান! কারণ, নির্বাচনে না গেলে সংগঠনের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে কি না, তারা জানেন না। আবার নির্বাচনে গেলে আসন নিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের ধান্দাবাজি, নির্বাচনে জয়লাভ করলে সরকার গঠন করবেন কীভাবে, কে হবেন দলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী! একজন হুইল চেয়ারে বসে আছেন, কথা বলতে পারেন না, একজন যাবজ্জীবন দণ্ড নিয়ে পলাতক, বিদেশে নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে আদৌ কি দেশে আসবেন- এসব কিছুই জানেন না কর্মীরা।

দেশে মত প্রকাশের অধিকার নেই নেই করেও সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনের সংখ্যা শত শত। সবাই 'আমাদেরকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না' বলে দিনরাত টেলিভিশন টকশো মুখরিত করে রাখেন। রাজপথে, প্রেসক্লাবের সামনে বা যে কোনো জায়গায় মাইক নিয়ে সভা করছেন। সরকারবিরোধী এই দলগুলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টায় একটা সাধারণ দাবিতে একাত্ম। আর সেটা হলো- এই সরকারের পদত্যাগ চায় সবাই। কেন চায়, বিশদ ব্যাখ্যা করতে বললে ইতং-বিতং অনেক কিছুই শোনা যাবে। বক্তব্যগুলোর ধরন এমন- এই সরকারের আমলে দেশ ভালো নাই, মানুষ ভালো নাই... ব্লা ব্লা ব্লা।

একটা দেশ ও মানুষের ভালো থাকার যেসব মানদণ্ড রয়েছে, তার কোন কোন সূচকে বাংলাদেশ অতীতের চেয়ে খারাপ রয়েছে- প্রশ্ন করলে তাদের মুখে জবাব যোগাবে না। অর্থনৈতিক সক্ষমতা, দেশজ উৎপাদন, রিজার্ভ, মাথাপিছু আয়, রপ্তানি আয়, কৃষি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও মজুদ... ইত্যাদি নানা সূচকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের বাঘা বাঘা অর্থনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শীর্ষ পর্যায়ের সংস্থাগুলোর গবেষণায় বাংলাদেশকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্ত ভিত্তির অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক নানা সম্মেলনে বাংলাদেশ লিডারশিপের পদমর্যাদা পাচ্ছে, বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর কাছে উদাহরণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ সহায়তা প্রদানসহ তাদের দায়ও নিচ্ছে বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ আগে কেউ কখনো দেখেছে?

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের এমন সম্মানজনক অবস্থান একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিদেশি বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা, বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সকল ক্ষেত্রে যথাযথ পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে সরকার। যে দেশকে একসময় হেয় করা হয়েছিল তলাবিহীন ঝুড়ি বলে, যে দেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষ হতাশা ব্যক্ত করেছিল পরপর ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হতে দেখে, সেই বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ কি এক?

সরল চোখে এই পরিবর্তিত বাংলাদেশ ভালো নেই, দেশের মানুষ ভালো নেই- এমন আজগুবি বক্তব্য কি হালে পানি পাবে? বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো এই বাংলাদেশের রূপকার বর্তমান সরকার এবং সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার পদত্যাগ চায় কোন মুখে? এই বিএনপি সেসব লেজুড় সংগঠনগুলোকে পাশে নিয়ে রাজপথে কী নিয়ে আন্দোলন করছে, কেন করছে? এদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে যে দেশের মানুষ হাসাহাসি করে, সেটা কি তারা বুঝতে পারছে? কেন তারা আশা করে তাদের কথায় লোকজন রাস্তায় নেমে এসে সরকারের পতন ঘটিয়ে ফেলবে? মানুষ কি এতই বোকা?

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত