দেশের মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষাই আওয়ামী লীগ সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার

688

Published on ডিসেম্বর 14, 2022
  • Details Image

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ভূমিকা অব্যাহত রেখে গণমানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার সংরক্ষণকে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। একারণে ২০২৩-২০২৫ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি)-এর সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবছর মানবাধিকার দিবস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই চারবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে চারবার সদস্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ।

ফলে, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি মহলের প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর হীন রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যের মুখোশও উন্মোচিত হয়ে গেছে।

মানবাধিকার দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানব-মর্যাদা, স্বাধীনতা আর ন্যায়পরায়ণতায়, দাঁড়াবো সকলেই অধিকারের সুরক্ষায়’। বাংলাদেশের দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রাম এবং গণমানুষের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক ভাবধারার সঙ্গে প্রতিপাদ্যটি মিলে যায়।

বঙ্গবন্ধু এমন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন যেখানে প্রতিটি মানুষ মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এজন্য মহান স্বাধীনতা অর্জনের এক বছরের মধ্যেই তিনি জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষার দলিল হিসেবে 'সংবিধান' প্রণয়ন করেন। সেই সংবিধান সমুন্নত রেখে দেশের মানুষের মানবাধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিরলসভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করে চলেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খুনিদের রক্ষার জন্য 'দায়মুক্তি আইন' করেছিল উগ্রবাদী স্বৈরশাসকেরা। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সেই কালো আইন বাতিল করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিচারের পথ খুলে যায়।

এমনকি, মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদান রেখে চলেছে বাংলাদেশ।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগই ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে কমিশন প্রতিষ্ঠা করে। এমনকি এই কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এমনকি শৈশব-কৈশোর থেকেই যেন একজন মানুষ মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে বেড়ে উঠতে পারে সেজন্য অনলাইন ভিত্তিক ‘মানবাধিকার কোর্স' চালু করা হয়েছে। তাছাড়া, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ প্রতিরোধে কমিশনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল ইনকোয়ারি কমিটি চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং বাঙালি জাতির চিরায়ত শান্তি ও মর্যাদাময় জীবন নিশ্চিতের জন্য, আওয়ামী লীগ সবসময়ই গণমানুষের মানবাধিকার সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সরকারে থাকলে তাই মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই হয় আওয়ামী লীগের প্রথম অগ্রাধিকার।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত