খালেদা জিয়ার শাসনামল ২০০১-২০০৬: প্রাত্যহিক ১৮ ঘণ্টার লোডশেডিং, বন্ধ হয় কারখানা, মেরুদণ্ড ভেঙে যায় শিল্প-উদ্যোক্তাদের

642

Published on মে 16, 2023
  • Details Image

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তার পুত্র ও বিএনপি নেতা তারেক রহমানের খাম্বা লিমিটেড-এর খপ্পরে জিম্মি হয়ে পড়ে দেশের বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে প্রতিবছরই বাড়তে থাকে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। অন্ধকারে ডুবে যায় সারা দেশ। ২০০৫ সালের ৩ জুনের জনকণ্ঠে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জে দিন-রাতের কোনো সময়ই বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধের উপক্রম হয় অধিকাংশ শিল্প কারখানা। এছাড়াও অফিস আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হয় ব্যাপকভাবে।

১৬ জুনের খবর জানায়, প্রাত্যহিক ১৬-১৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কারণে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের শিল্প উৎপাদনে ধস নামায় লাটে ওঠে ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয় ব্যবসায়ীদের। মাত্র এক মাসের তীব্র লোডশেডিংয়ে সহস্রাধিক টাকার ক্ষতি হয়, যার প্রভাব পড়ে জনসাধারণের ওপর। সানোয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে প্রতিদিন তাদের ক্ষতি হয় ২০ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের শত শত গার্মেন্টস কারখানা, কর্ণফুলী নদীর দুপারে অবস্থিত ৭ শতাধিক মাঝারি ও ভারী শিল্প কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

১২ জুলাইয়ের খবরে জানা যায়, বৃহত্তর রংপুরে ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৬-৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পায়নি মানুষ। টানা বিদ্যুৎহীনতার কারণে শিল্পনগরী হারাগাছের কলকারখানা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। হারাগাছ বিদ্যুৎ গ্রাহক সংগ্রাম পরিষদের নেতা এবং পৌর চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া জানান, ১০ দিন টানা বিদ্যুৎহীনতার কারণে ২১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের। মুখ থুবড়ে পড়েছে হারাগাছের অর্থনীতির মেরুদণ্ড বিড়ি শিল্প।

৫ আগস্টের সংবাদপত্র জানায়, সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলতার কারণে দেশের নির্ভরশীল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বিদ্যুৎহীনতার কারণে নাকাল হয়ে পড়ে পুরো দেশ। চাহিদা সামাল দিতে না পারায় পিডিপি প্রত্যহ প্রায় ১০০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেয় নিয়মিত। যার কারণে ঢাকাসহ জেলাশহরগুলো পর্যন্ত সন্ধ্যার পর থেকে অন্ধকারে ডুবে যায়।

১১ আগস্টের খবরে সরকারি হিসেবের বরাতে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত সরকারের চার বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ৮০ মেগাওয়াট। কিন্তু বাস্তবতা আরো কঠিন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অন্তত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা থাকলেও তা আসলে আগের চেয়েও কমেছে। কারণ সময়ের স্বাভাবিক নিয়মে চার বছরে শিল্প-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যেমন বেড়েছে, কিন্তু বাড়েনি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেই হিসেবে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ চার বছরে দুঃখজনকভাবে অনেক কমেছে। এজন্য সরকারের সমন্বয়হীনতা, দুর্নীতি, প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতাকে দায়ী করেছেন সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের সংবাদ জানায়, ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে সাধারণ জনতা। এমনকি শুধু রাজধানীতেই ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করে বিএনপি-জামায়াত সরকার। এমনকি সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় অনেক প্রতিষ্ঠান।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত