বঙ্গবন্ধু: প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা

ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনঃ পৃথিবীতে কালে কালে দেশে দেশে বহু মহামানব এসেছেন, যাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণে বহু রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধিত হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেইসব মহামানবের মধ্যে অন্যতম। বাঙালির দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারতেন বলেই তিনি বঙ্গবন্ধু। তিনি জাতির পিতা, কারণ এ জাতির কল্যাণের কথা তিনি শুধু চিন্তাই করেননি, সে অনুযায়ী আজীবন কাজও করে গেছেন। স্বাধী...

বঙ্গবন্ধুর গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষা দর্শন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সনদ

অধ্যাপক মো রশীদুল হাসানঃ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের শুধু একটি জাতি সত্ত্বাই দেননি, তিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন আগামী প্রযুক্তি নির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। ধ্বংস্তুপ থেকে বাংলাদেশকে তুলে এনে সম্ভাবনাময় একটি দেশে রূপান্তর করেছেন। আগামীর বাংলাদেশে যে শিক্ষা ছাড়া ...

জাতির পিতার সমবায় ভাবনা ও কৃষি নীতি ২০১৮

প্রফেসর এম কামরুজ্জামান: কৃষি উন্নয়নে সমবায় পদ্ধতি যুগান্তকারী অবদান রাখতে পারে। কৃষকরা সমবায়ী হলে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের মনোবলও বৃদ্ধি পাবে। একতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হলে কৃষক সমাজ আর্থসামাজিক উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। সমবায়ের মূলকথা হচ্ছে একতাই বল। নিজের পৃথক অস্তিত্বকে উপেক্ষা করে অপরের সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার নামই একতা। একতাবদ্ধ থাকলে শক্তি...

শেখ মুজিবকে গোয়েন্দারা কীভাবে অনুসরণ করত

অজয় দাশগুপ্ত: ঢাকার গোয়েন্দা অফিস। অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত। পশ্চিম পাকিস্তানের গোয়েন্দারাও রয়েছে। এক পশ্চিম পাকিস্তানি অফিসারঃ পূর্ব পাকিস্তানে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। ১৯৪৬ সালে নির্বাচন হয়েছে। তারপর ৬ বছর চলে গেছে। এখন নির্বাচন দেওয়া হলে মুসলিম লীগ কি জয়ী হয়ে আসতে পারবে? এক বাঙালি গোয়েন্দাঃ মুসলিম লীগের অবস্থা শোচনীয় স্যার। তাদের সাংগ...

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরীঃ সপরিবারে নির্মম হত্যার প্রায় ২৯ বছর পর এবং বিএনপির শাসনামলে ২০০৪ সালের ১৪ এপ্রিল মোতাবেক ১লা বৈশাখ ১৪১১ বঙ্গাব্দে বিবিসি বাংলা বিভাগের সকালের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি অভিধায় ভূষিত করে। ফেব্রুয়ারী মাসের ১১ তারিখ থেকে মার্চের ২২ তারিখ পর্যন্ত সারাবিশ্বের হাজার হাজার বাঙালি শ্রোতা চিঠি, ইমেইল...

বঙ্গবন্ধু এবং একবিংশ শতাব্দীর এশীয় রাজনীতি

অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামীঃ একবিংশ শতাব্দীর এশীয় রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা ও তার প্রদর্শিত পথ আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা ও মূল্যায়ন করতে পারি? বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে এবং এশীয় শতাব্দী হিসেবে গণ্য হওয়া একবিংশ শতাব্দীতে তার ৪৫তম শাহদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনকালে এশীয় রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জিত এবং তার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নে...

১৫ আগস্টঃ ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়

১৫ আগস্ট জাতীয় শোকের দিন। বাংলার আকাশ-বাতাস আর প্রকৃতিও অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। কেননা পঁচাত্তরের এই দিনে আগস্ট আর শ্রাবণ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর আকাশের মর্মছেঁড়া অশ্রুর প্লাবনে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সুবেহ সাদিকের সময় যখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে বুলেটের বৃষ্টিতে ঘাতকরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল, তখন যে বৃষ্টি ঝরছিল, তা যেন ছিল প্রক...

মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠায় রেণুর প্রেরণাঃ ‘কারাগারের রোজনামচা’য় বঙ্গমাতা

শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠার পিছনে বঙ্গমাতা মুজিবের ভূমিকা ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকা অবস্থায় জেলে বারবার দেখা করতে গিয়ে জেলের বাইরের পরিস্থিতি জানানো থেকে শুরু করে সংসার সামলানো, নেতা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পালন করে নিজ বাড়িতে আওয়ামী লীগের মিটিং পর্যন্ত করেছেন বঙ্গমাতা। বঙ্গমাতা মুজিবের আত্মত্যাগ বঙ্গবন্ধুকে করেছে আরো দৃঢ়, ...

মুজিবের অনুপ্রেরণা রেণুঃ 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব

বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, ডাকনাম রেণু; আমাদের প্রিয় বঙ্গমাতা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনীর চেয়েও তাঁর বড় পরিচয় তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণাদায়ী। বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে আজীবন পাকিস্তানি শোষকশ্রেণীর জেল-জুলুম সহ্য করেছেন বঙ্গবন্ধু। আর তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের কর্মীদের দেখভাল করার ভার সামলেছেন বঙ্গমাতা। বঙ্গবন্ধু অন্তরীন থাকাকালীন ...

আগস্টের প্রথম প্রহরে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

আগষ্টের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ১৫ ই আগষ্টে নিহত বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন এবং আলোর মিছিল করে শোকাবহ আগষ্টের কর্মসূচী শুরু করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নেতৃবৃন্দ বঙ্...

মুজিববর্ষের এককোটি গাছ হোক আমাদের প্রাণ

খাজা খায়ের সুজনঃ আমাদের ইতিহাসের মহানায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার জন্ম না হলে পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পেত না লাল সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশ। ইতিহাসের মহানায়কেরাই কেবল জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে পারেন। উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখতে পারেন জীবনের পরতে পরতে। আর এমন মহানায়ক পাওয়া তো যে কোনো জাতির জন্যই পরম ভাগ্যের। ...

জঙ্গিবাদ মোকাবেলার দর্শন : ‘আমি বাঙালি আমি মানুষ, আমি মুসলমান’

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানঃ পাকিস্তানের বন্দিশালা থেকে ফিরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান।’ বাংলাদেশ, বাঙালি ও তার সংস্কৃতি ছিল বঙ্গবন্ধুর চেতনাজুড়ে। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনায় বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন, ‘আজ থেকে বাঙালি জাত...

বঙ্গবন্ধুর সরকার পরিচালনা ১৯৭২-১৯৭৫

মুনতাসীর মামুনঃ একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের স্বপ্ন, বাংলাদেশে বসবাসকারী অনেকে দেখেছেন বহুদিন। অতীতে অনেকে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছেন, যদিও তারা বাঙালি ছিলেন না। গত শতকের গত ৪০ বছরেও অনেকে সে-ভূখণ্ডের কথা বলেছেন, ভারত ভাগ হওয়ার সময় সে-পরিকল্পনাও একবার হয়েছিল। গত শতকের ষাটের দশকে মওলানা ভাসানীও বাঙালিদের জন্য স্বাধীন ভূখণ্ডের কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে সেই...

দল গোছানোর কাজে বঙ্গবন্ধুর জেলায় জেলায় ভ্রমণ এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা

শেখ মুজিবুর রহমানের জেলজীবন গণনা করা হয়েছে। তিনি মোট ১৪ বছর জেল খেটেছেন। তার রাজনৈতিক ভ্রমণ কি গণনা করা হয়েছে? ওই ১৯৪০ সাল থেকে যখন তিনি তরুণ ছাত্রনেতা, মাত্র নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেছেন তখন থেকে ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ঠিক কতশত মাইল ভ্রমণ করেছেন, এর কোনো হিসাব কি আছে? একজন মানুষ কতটা কর্মতৎপর হলে এমনটা হতে পারেন, তা ভাবলে বি...

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ

মনজুরুল আহসান বুলবুল: আমাদের সকল সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৗরবগাথা ইতিহাসেই স্বীকৃত। বয়সের হিসাব দেখলেও দেখি, শেখ মুজিব আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ চলা প্রায় হাত ধরাধরি করেই। ২০২০ সাল পালিত হচ্ছে মুজিববর্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ হিসেবে, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পালিত হবে ২০২১ সালে, আগামী বছর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ন...

ফিরে দেখা সাতই জুন

মাহফুজ উল্লাহঃ আজ সাতই জুন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল দিন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্ম এ দিনটি সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। জানবার কথাও নয়। তরুণদের তো আর দেশের ইতিহাস পড়ানো হয় না। যা পড়ানো হচ্ছে তা খণ্ডিত চিত্র, যা ঘটেছে তার বর্ণনা ও প্রতিক্রিয়া নয়। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে যে প্রজন্ম জড়িত সে প্রজন্মের প্রত্যেকের কাছেই ৭ জুন পরিচিত তারিখ। সমর্থন...

বাঙালির মুক্তির সনদ ‘৬-দফা’

বাঙালি জাতি চির দুর্বার, চির দুর্মর। যুগে যুগে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। শক্তিবলে অসম হলেও তারা ব্রিটিশদের সামনেও কভু মাথা নত করেনি। পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠীর দুঃশাসন,অত্যাচারে জর্জরিত বাঙালি দৃঢ়কন্ঠে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে। ৫২’র হার না মানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে নিজেদের মাতৃভাষার অধিকার । ধীরে ধীরে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে গেছে স্বাধিক...

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফার তাৎপর্য

ড. এম এ মাননানঃ বঙ্গবন্ধুর পদচারণা এ দেশের অনেক কিছুতেই। সমতলের মেঠোপথ, হাওর-বাঁওড়ের কূলঘেঁষা সবুজ গ্রাম, সাগরপাড়ের মৎস্যজীবী অঞ্চল, পাহাড়ের অরণ্যভূমি, নদী সিকস্তির নিম্নভূমি, শহরের অলিগলি, কোথায় ছিল না তার পদচারণা। সদর্প পদচারণা ছিল রাজনীতির সুবিশাল ময়দানে, অর্থনীতির পরতে পরতে, শিল্পাঞ্চলের মেহনতি মানুষের আঙিনায়। অনেক পদচারণার অন্যতম ছিল পাকিস্তানি সামরিক শ...

ছয় দফা ॥ শহীদের রক্তে লেখা

তোফায়েল আহমেদঃ আজ ঐতিহাসিক ৭ জুন। ১৯৬৬-এর এই দিনে পাকিস্তানের তদানীন্তন সামরিক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এ দেশের গণতন্ত্রকে হত্যার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন। বাংলার গণমানুষ স্বাধিকার ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৭ জুন সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বব্যাপী হরতাল পালন করেছিল। বাংলা মায়ের দামাল সন্তানরা এদিন তা...

স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম পদক্ষেপ

ড. এম এ মাননানঃ ২০২০ সালের ৭ জুন ৫৪তম ছয় দফা দিবস। প্রকৃতপক্ষে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের দুই অংশের সব বিরোধী দলের কনভেনশনের সাবজেক্ট কমিটিতে বঙ্গবন্ধু প্রথম তাঁর প্রণীত ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করার চেষ্টা করেন, যদিও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার বিরোধিতার কারণে এ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। তবে তিনি ১১ ফেব্রুয়ারি ছয় দফার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ঢাকা বিমানবন্দরে লাহ...

  • «
  • »