নিরস্ত্র বাঙালির সশস্ত্র জাতিতে রূপান্তর হওয়ার প্রেরণা

1783

Published on ফেব্রুয়ারি 26, 2021
  • Details Image

তােফায়েল আহমেদ:

সাত মার্চ এলেই মনে পড়ে ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নয়ন জুড়ানাে স্বাধীনতার অমর মহাকাব্য পাঠের দৃশ্য। অমন দৃশ্যপট আর জাতির জীবনে আসেনি। আর কখনােই আসে না অমন গৌরবময় সােনালি দিন। সাত মার্চের বসন্তে জাতির হৃদয় জাতীয় মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উদ্বেলিত হয়েছিল, উত্তাল হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ডাকে। অগ্নিঝরা ইতিহাসের উত্তাল মার্চ, অসহযােগ আন্দোলনের উর্মিমুখর দিনগুলাে আজও চোখে ভাসে। বাঙালি জাতি তাদের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে স্বাধীনতার মধ্যে এক সুতােয় বাঁধা পড়ার দিন সাত মার্চ। সেদিন তার অঙ্গুলি হেলনে পাকিস্তানের পতন ঘটেছিল। তার বজ্রকণ্ঠে ফুঁসে উঠেছিল পদ্মা-মেঘনা-যমুনা। তার বাশির সুরে নগর-বন্দর থেকে গ্রামের মেঠোপথে মানুষের হৃদয় মুক্তির নেশায় জেগে উঠেছিল। রেসকোর্স ময়দানের (সােহরাওয়ার্দী উদ্যান) মঞ্চ ঘিরে সেদিন সকাল থেকেই বিক্ষুব্ধ বাংলার জনগণ এক স্রোতে এসে মিশেছিল । সেকি উন্মাদনা! সে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ! কী উত্তেজনাময় দিনই না ছিল বাঙালি জাতির জীবনে। এক কঠিন সময়ের মুখােমুখি দাঁড়িয়ে বাঙালির প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তার প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার স্বপ্ন সামনে রেখে কী বলবেন তার জনগণকে? এই প্রশ্নটিই ছিল সবার কৌতূহলী মনে।

একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শ সামনে নিয়ে যারা সংগ্রাম করে, শত অত্যাচার নির্যাতনের দুঃসহ যন্ত্রণা তাদের গতিপথকে রােধ করতে পারে না। তাই কারাগারের অন্ধকার নিঃসঙ্গ মুহূর্তে নয়, কবরের পাশে দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি শাসকদের কাছে মাথা নত করেননি। কোনাে কিছুই তাকে তার অঙ্গীকার আর লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি।

৩ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডেকেছিলেন। ১ মার্চ হােটেল পূর্বাণীতে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সভা। সকাল ১০টা থেকে বৈঠক শুরু হয়। একই দিন পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, যদি তার পিপলস পার্টিকে বাদ দিয়ে ৩ মার্চ অধিবেশন বসে, তাহলে পেশােয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত জীবনযাত্রা নীরব নিথর করে দেওয়া হবে। এর পরপরই বেলা ১টায় ইয়াহিয়া খান জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, 'পাকিস্তানে এখন ভয়াবহ রাজনৈতিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। তাই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করছি। এই ঘােষণার পর উত্তাল ঢাকা যেন আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ থেকে ছাত্ররা বের হয়ে আসে। ঘর থেকে জনতা ছুটে আসে রাজপথে, পল্টন ময়দান যেন জনসমুদ্র।

হোটেল পূর্বাণীর চারদিকে জনস্রোত। ঢাকা শহরে স্লোগান আর স্লোগান। 'জাগাে জাগো বাঙালি জাগাে'; 'পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তােমার আমার ঠিকানা', 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধরাে সােনার বাংলা মুক্ত করাে'; পিণ্ডি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা; পাঞ্জাব না বাংলা, বাংলা-বাংলা'; 'ভুট্টোর মুখে লাথি মারাে বাংলাদেশ স্বাধীন করাে'। ইয়াহিয়ার ঘোষনায় জনতার রুদ্ররােষে ঢাকা হয়ে পড়ে মিছিলের নগরী। হােটেল পূর্বাণীতে দেশ-বিদেশের অগণিত সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুর মুখােমুখি হওয়ার অপেক্ষায়। বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধু স্বভাবসুলভ দৃঢ়তা নিয়ে সাংবাদিকদের বললেন, "বিনা চ্যালেঞ্জে আমি কোনাে কিছুই ছাড়ব না। ৬-দফার প্রশ্নে আপােস করব না। দুই থেকে পাঁচ তারিখ প্রতিদিন বেলা ২টা পর্যন্ত হরতাল চলবে। সাত মার্চ রেসকোর্স ময়দান থেকে পরবর্তী কমূসূচি ঘােষণা করা হবে। ওইদিন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলাে ছাত্রলীগ আর ডাকসুর সমন্বয়ে। নেতৃত্বে ছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আসম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন। আজকাল অবাক হয়ে লক্ষ করি, ইতিহাস বিকৃতির ধারায় অনেকেই মননের দীনতা ও নীচুতা প্রকাশ করেন বিভিন্ন মিডিয়ায়। তারা ইতিহাসের অমােঘে সত্যকে এড়িয়ে নিজেকে বড় করে দেখান। স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই রক্তঝরা প্রতিটি দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ হতাে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ, স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন ইতিহাসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জায়গা পাওয়া প্রতিটি আলােকিত ঘটনাই ঘটেছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। তখন বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে সামনে নিয়েই পথ হেটেছে। আমরা শুধু বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সেদিন কর্মীর দায়িত্ব পালন করেছি। ইতিহাস বিকৃতির আস্ফালন দেখি আর ভাবি, আদর্শচ্যুত হলে মানুষ বােধহয় এভাবেই মিথ্যার মোড়কে সত্যকে গােপন করতে চায় ।

সাত মার্চে স্বাধীনতার ডাক এসেছিল । বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি বিজয় অর্জন করেছিল। যারা আজ ইতিহাস বিকৃত করছে, তাদের জন্য ইতিহাস কাঠগড়া নির্ধারণ করে রেখেছে। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাবেশ। কী স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামের স্রোত! বঙ্গবন্ধু আর স্বাধীন বাংলাদেশ তখন সবার হৃদয়ে। বাংলাদেশের ভৌগােলিক সীমারেখা আঁকা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলাে । ৩ মার্চ পল্টনে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশ। উত্তাল রূপ নিল । বঙ্গবন্ধু এলেন, তুমুল করতালি আর স্লোগানের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল। স্বাধীন বাংলার ইশতেহার পাঠ হলাে। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হলাে। ইশতেহারে বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন বাংলার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক করা হয়। এদিকে ৫ মার্চ পর্যন্ত টানা হরতাল। চলমান অসহযোগ আন্দোলনের মুখে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর ও চট্টগ্রামে শাসকের বুলেটে রক্তাক্ত হলাে বাংলাদেশ। সান্ধ্য আইন জারি হলে বীর বাঙালি তাও অমান্য করল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি জাতি এতটাই অবিচল আস্থায় স্বাধীনতার মধ্যে অপ্রতিরােধ্য হয়ে উঠল যে, তাদের রুখে দাড়ানাের সাধ্য আর শাসকের নেই। মৃত্যুকে জয় করে রাজপথে নামার সাহস যেন বীর বাঙালি অর্জন করছে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে। প্রতিদিন ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে এসে মিলিত হতে থাকে জনতার মিছিল। যেন ওটাই বাঙালির ঠিকানা। নেতার নির্দেশ নিয়ে তারা আরাে বেশি সংগ্রামমুখর হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এস এম আহসানকে সরিয়ে বেলুচিস্তানের কসাই বলে খ্যাত টিক্কা খানকে গভর্নর করেন। ১০ মার্চ ইয়াহিয়া খান গোলটেবিল বৈঠক আহ্বান করলে বঙ্গবন্ধু তা প্রত্যাখ্যান করেন। ২৫ মার্চ ডাকেন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন। আর বীর বাঙালির মাঝে তখন রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক কী নির্দেশ দেন তা শুনতে, দেখতে রক্তে নেশা ধরানাে উন্মােদনা।

১৯৭০-এর ৭ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২ নভেম্বরের সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, জলােচ্ছাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয় ১৭ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধু আমাকে তার নির্বাচনী সফরসঙ্গী করেন। আমার জীবনে এমন জ্যোতির্ময়, হৃদয়বান নেতার সান্নিধ্য আর আসবে না ভাবতেই মন খারাপ করে। বঙ্গবন্ধুকে ওই সময় কাছ থেকে দেখেছি, তার চিন্তা-চেতনায় স্বাধীনতা ছাড়া কিছুই ছিল না। মাত্র ২৭ বছর বয়সে আমি তখন জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হয়েছি। নির্বাচনে ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনেই জনগণ নৌকা প্রতীকে ভােট দিয়ে আমাদের নয়, সেদিনের বঙ্গবন্ধুকেই নির্বাচিত করেছিল। আমরা কেবল জাতির আস্থার প্রতীক বঙ্গবন্ধুর প্রতিনিধি ছিলাম মাত্র। বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার পথে হাঁটছেন তা পাকিস্তানি শাসকচক্র আর জুলফিকার আলী ভুট্টো বুঝতে পেরেই বাঙালির অবিসংবাদিত নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বােনে। কিন্তু ইতিহাসের চির সত্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধু তার প্রতি জনগণের বিশ্বাস, জনগণের প্রতি তার অঙ্গীকার আর প্রিয় মাতৃভূমির সঙ্গে কোনােদিন প্রতারণা করেননি । যার জন্য ইয়াহিয়া ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করেন ।

আজ সাত মার্চের সেই দিনটির কথা ভাবলেই কত অবাক হই। বঙ্গবন্ধু সেদিন নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র বীরের জাতিতে পরিণত করেন। সেদিন রেসকোর্স ময়দানে ছুটে আসা ১০ লাখেরও বেশি জনতা যেন ছিল প্রতিটি ঘরে ঘরে স্বাধীনতার বার্তা পৌছে দেওয়ার একেকজন দূত। সেদিন স্বাধীনতার ডাক দিয়ে বঙ্গবন্ধু ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তােলার উন্মাদনা ছড়িয়েছিলেন। সেই উন্মাদনা গােটা জাতির রক্তে ছড়িয়েছিল। নেতা জানতেন তার মানুষের ভাষা। জনগণ বুঝত নেতার ইশারা। নেতার কন্ঠের মাধুর্য তার জানা ছিল। তাই জাতি সেদিনই নেতার ডাক পেয়ে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে। সাত মার্চ সকাল থেকেই সারাদেশের জনস্রোত এসে মিলিত হতে থাকে রেসকোর্স ময়দানে। রেসকোর্স ময়দান যেন বিক্ষুব্ধ বাংলার সেদিন তাদের প্রিয় নেতা হৃদয় আর বিশ্বাস থেকে যে ডাক দিয়েছেন, তা তারা সানন্দে গ্রহণ করেছে। সকাল থেকেই কী এক উত্তেজনায় টালমাটাল দেশ। কী বলবেন আজ বঙ্গবন্ধু? এই প্রশ্ন নিয়ে লাখ লাখ মানুষের মিছিল ছুটে আসে বেসকোর্স ময়দানের দিকে। শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে দৃঢ়তার সঙ্গে আপােসহীন অবয়ব নিয়ে নেতা এসে দাঁড়ালেন জনতার মঞ্চে।

জনতার হৃদয়ে যেন আকাশ স্পর্শ করার আনন্দ দোলা দিয়ে গেল । নেতা যখন মঞ্চে উঠলেন, মনে হলাে আমরা হিমালয়ের পাদদেশে দাড়িয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তন্ময় হয়ে শুনে যাচ্ছি তার সেই দুনিয়া কাঁপানাে ঐতিহাসিক ভাষণ। যাকে মানুষ তুলনা করে আব্রাহাম লিংকনের 'গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস' বলে খ্যাত ভাষণের সঙ্গে। সাজানাে-গােছানাে নির্ভুল ছন্দোবদ্ধ, প্রাঞ্জল, উদ্দীপনাময় ভাষণটি তিনি রাখলেন। কী আস্থা তার প্রিয় স্বদেশের মানুষের প্রতি, প্রধানমন্ত্রিত্ব এমনকি জীবনের চেয়েও কত বেশি প্রিয় তার মাতৃভূমির স্বাধীনতা, তা-ই তিনি শােনালেন। এতটাই বিচক্ষণ ও দূরদর্শী ছিলেন যে, ভাষণে তিনি একদিকে স্বাধীনতার ডাক দিলেন, অন্যদিকে শাসকের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করার পাতানাে ফাঁদে পা দিলেন না। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম যেমন বললেন, তেমনি চার শর্তের জালে ফেললেন শাসকের ষড়যন্ত্রের দাবার ঘুঁটি। বললেন, সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে হবে। সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে। নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। গণহত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। রক্তের দাগ না মােছা পর্যন্ত অধিবেশনে যােগ না দেওয়ার কথাটিও বললেন । ক্যান্টনমেন্টে তখন গুলিবর্ষণ, বােমা হামলার প্রস্তুতি। কিন্তু নেতার বিচক্ষণতায় রক্তপাত এড়ানাে সম্ভব হলাে ।

সাত মার্চের ভাষণ নয়, যেন মহানায়কের বাশিতে উঠে আসা স্বাধীনতার সুর। সেই সুর বীর বাঙালির মনেই নয়, রক্তেও সশস্ত্র স্বাধীনতার নেশা ধরিয়ে দেয়। ভাষণটি বঙ্গবন্ধু নিজ সিদ্ধান্তেই দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের সহযাত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব জানিয়েছিলেন, ৬ মার্চ সারারাত বঙ্গবন্ধু বিচলিত অস্থির ছিলেন, তিনি কী বলবেন তার জনগণকে তা নিয়ে । বেগম মুজিব বলেছিলেন, 'তুমি যা বিশ্বাস কর তা-ই বলবে। সেই দিনটির কথা মনে পড়লে এখনাে শিহরিত হই। মনে হয় বঙ্গবন্ধু যদি আবার ডাক পাঠাতেন, আবার যুদ্ধে যেতাম। এখনাে কানে বাজে নেতা বলছেন, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তােমাদের যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে শত্রুর মােকাবেলা করবা। আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, বাংলার মানুষের অধিকার চাই।

কত স্মৃতি ভাসে। কত সুখের স্মৃতি। কত বেদনার স্মৃতি । সাত মার্চের স্মৃতি অমলিন। মঞ্চে যখন তিনি উঠলেন, মনে হলাে এই দিনটির জন্য বঙ্গবন্ধুর সারাজীবনের সংগ্রাম আর অপেক্ষা। মনে পড়ছিল সেই কথাটিই এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। বঙ্গবন্ধু এলেন, দেখলেন আর হৃদয় জয় করে ফিরলেন।

সূত্রঃ মোনায়েম সরকার এবং মোহাম্মদ হাননান সম্পাদিত "শ্রেষ্ঠ বাঙালি" সংকলন থেকে সংগৃহীত

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত