সংকট মোকাবেলার মূলমন্ত্র জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেম

1986

Published on জুন 25, 2020
  • Details Image

প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন:

দেশ ও জাতির যেকোনো সংকটে জাতীয় ঐক্যের ভূমিকা অপরিসীম। ঐক্যবদ্ধভাবে সংকট মোকাবেলায় যে দেশের প্রতিটি মানুষ যখনি এগিয়ে এসেছে তখনি ঐ দেশ সেই সংকট থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই সব ইতিহাস গুলোরই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। ১৯৪৭-১৯৭১ দীর্ঘ ২৪ বছরের পাক হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন থেকে মুক্তির জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যে দিয়ে যে ইস্পাত-দৃঢ় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিলো, তার হাত ধরেই আমরা পেয়েছি আমাদের স্বপ্নের সেই স্বাধীনতাকে। '৫২ কিংবা '৭১ বাংলাদেশের জন্য এক একটি সোনালী অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছিলো যা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে জাতীয় ঐকের মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্খিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারি। যেকোনো জাতীয় সংকট বুক উঁচিয়ে মোকাবেলা করতে পারি। ২৬ মার্চ, ১৯৭৫ সালে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় ঐক্য নিয়ে বলেছিলেন, ‘জাতীয় ঐক্য করার জন্য একদল করা হয়েছে। যারা বাংলাকে ভালোবাসে, এর আদর্শে বিশ্বাস করে, চারটি রাষ্ট্রীয় আদর্শ মেনে সৎ পথে চলে তারা সবাই এই দলের সদস্য হতে পারবেন। যারা বিদেশী এজেন্ট, যারা বহিঃশত্রুর কাছ থেকে পয়সা নেয়, এতে তাদের স্থান নেই। সরকারি কর্মচারীও এ দলের সদস্য হতে পারবে। কারন, তারাও এই জাতির একটি অংশ। তাদেরও অধিকার থাকবে এই দলের সদস্য হবার। এই জন্য সকলে যে যেখানে আছি, একতাবদ্ধ হয়ে দেশের কাজে লাগতে হবে।’

সভ্যতার সৃষ্টিলগ্ন থেকেই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ধারণকে ব্যহত করেছে বারং বার। তবুও মানুষ শত প্রতিকূলতাকে হারিয়ে বার বার এ পৃথিবীকে করেছে কর্মময়। এমনি এক বৈশ্বিক দুর্যোগ কোভিড-১৯। যার তাণ্ডব লীলায় আজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রা। ইতোমধ্যে মহামারি আকার ধারণ করা এ ভাইরাসটি বিশ্বের ১৭৭ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৮৫ লক্ষাধিক মানুষ এবং মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৪ লক্ষাধিক।

হঠাৎ করেই এই অজানা ভাইরাসের আক্রমণে পুরো বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশেও করোনাভাইরাসের কারনে চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোটাই ভেঙ্গে পড়ে। বিখ্যাত সংবাদ মাধ্যম বিবিসির কাছে যুক্তরাজ্যের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডাক্তার অভিযোগ করে বলেন তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচ্ছেন না। এমনকি তারা ময়লা ফেলার ব্যাগ দিয়ে নিজেরাই তৈরি করছেন নিজেদের পিপিই। চিকিৎসকরা যে ফেইস মাস্ক ব্যবহার করেছেন তার মধ্যে অনেকগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ বলেও জানান তিনি। সেই চিকিৎসক আরও বলেন, যুক্তরাজ্য সরকার গনমাধ্যমে ডাক্তারদের কথা বলার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। করোনাভাইরাস বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেছেন দেশটি আরও আগে লকডাউন জারি করতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক প্রাণহানি ঘটেছে । কিন্তু এসব চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব কিংবা সরকারকে নিয়ে জনসাধারনের করা মিশ্র প্রতিক্রিয়া কোনটিই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাঁধা হতে পারেনি যুক্তরাজ্যে। সংক্রমণ বিস্তারে মাস খানিক আগেও যেই দেশটি শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি ছিল কিন্তু বর্তমানে সেই দেশের সর্বস্তরের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, সরকারি নির্দেশনা মান্য করা এবং সরকারকে যে যার জায়গা থেকে সহযোগিতার কারনে এখন সে দেশে সংক্রমন ও মৃত্যুহার অনেকটাই কমে এসেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্র আমেরিকাও কোভিড-১৯ মোকাবেলায় রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছে। এই ভাইরাস সংক্রমনের প্রথম থেকেই সে দেশে কড়াকড়িভাবে সরকারি কোন পদক্ষেপ না নিয়ে বরং পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্তমানে সংক্রমন ও মৃতের দিক থেকে সকল দেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কারন হিসেবে অনেকেই দায়ী করছেন ট্রাম্প সরকারের এই পদক্ষেপকে। এমনকি তিনি নভেল করোনাভাইরাসকে সাধারণ ফ্লু'র সাথে তুলনা করেন। এছাড়াও আমেরিকার মতো দেশেও ভেন্টিলেটরের অভাবে এখন ডাক্তারদের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে যে ভেন্টিলেটর প্রাদানে কাকে প্রাধান্য দেয়া হবে। কিন্তু এ সকল জটিলতা কিংবা সরকারের সমালোচনা থাকলেও দেশকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করার জন্য এখন দল-মত নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাধ মিলিয়ে যে যার স্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম স্পেনেও দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি অবস্থা জারির আগে করোনা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারের অভাব ও করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার ঘাতটিকে মৃত্যুর বড় কারণ হিসেবে দেখা হলেও সে দেশেও এখন সকল সমালোচনাকে তুচ্ছ করে যৌথভাবে সকলে মিলে এ মহামারি থেকে দেশকে রক্ষা করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ।

অন্যদিকে যেখানে বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ডাক্তারদের প্রয়োজনীয় মেডিকেল সামগ্রী সরবারহ ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কিটের অভাবে করোনা পরীক্ষা করাতে ব্যর্থ হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে । সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন করোনা প্রতিরোধের দায়িত্বপালনকালে যদি কেউ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন, তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা সরকার বহন করবেন । মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করে চলা সকল স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পদমর্যাদা অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবীমা করার কথাও বলা হয়েছে। মৃত্যুর ঝুঁকি আছে বা মৃত্যুবরণ করলে তাদের জন্য এই বীমা ৫ গুণ বৃদ্ধি করা হবে। বাংলাদেশ সরকার সারাদেশে নিম্ন আয়ের মানুষদের ১০ টাকা কেজি দরে ৯০ হাজার টন চাল বিতরণ করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ভাসানচরে দরিদ্র এক লাখ লোকের আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। কিন্তু এই সংকটময় অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫.৫ লক্ষ গৃহহীনদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করেনি ট্রাম্প সরকার যার প্রমান মেলে ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস প্রতিনিধি ডেভিন নিউনেস তার এলাকার গৃহহীনদের এক ধরণের সিনেমায় কবর থেকে উঠে আসা 'জিন্দা লাশের' পৃথিবী দখলের সাথে তুলনা করেন। এছাড়াও করোনাভাইরাসের আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ১১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ । এই সহায়তা প্যাকেজ থেকে বৃহৎ শিল্প খাতে ৯% হারে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হবে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৪.৫% অর্থ ভর্তুকি দেবে সরকার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ৪% সুদে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হবে এবং এক্ষেত্রে ৫% হারে অর্থ ভর্তুকি দেবে সরকার। সেখানে বাংলাদেশের পার্শবর্তী রাষ্ট্র ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেশ হয়েও মাত্র ২৬.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। পাকিস্তান ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যা বাংলাদেশের ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের প্রায় অর্ধেক। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার ভূয়সী প্রশংসা করে একে সাহসী এক পদক্ষেপের সাথেও তুলনা করেছেন বিশ্বনেতাদের অনেকে ।

একইসাথে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ডাক্তার এবং সরকারি বিভিন্ন কাজে জড়িত কর্মকর্তা কর্মচারী সহ সংশ্লিষ্ঠ প্রতিটি ব্যক্তি ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ জনগনের জন্য নিজেদের উজাড় করে কাজ করে যাওয়া প্রকৃতপক্ষেই প্রশংসার দাবীদার। এমনকি জনসাধারনের জন্য কাজ করতে গিয়ে জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ডাক্তার সহ অনেক জনপ্রতিনিধি তাদের জীবন হারিয়েছেন। তাদের এ ত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আমরা ভাগ্যবান যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। এপ্রিলে প্রকাশিত বিশ্বের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বসে করোনা মোকাবেলায় সফল নারী নেতৃত্বের তালিকায়ও নাম রয়েছে তার। সেখানে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকার দেশের সকল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা রোগী শনাক্ত করতে স্ক্রিনিংয়ের জন্য মেশিন ব্যবহার করেন যেখানে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে (এদের মধ্যে ৩৭ হাজার মানুষকে দ্রুত কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়,২৬ এপ্রিল প্রকাশিত ফোর্বসের তথ্য মতো), যা তখনো যুক্তরাজ্য কার্যকর করতে পারেনি।

কিন্তু সরকার কর্তৃক এসব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের পরও সরকার বিরোধী দলগুলো এবং তাদের নিজেস্ব বলয়ের মধ্যে সৃষ্ট কিছু গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট কিছু মহল প্রতিনিয়ত সরকারের সমালোচনায় পঞ্চমুখ। অথচ বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলোর জনকল্যাণমূলক কাজ কোথাও দেখা যাচ্ছে না। এমনকি বিরোধী দলগুলোর মালিকানাধীন বড় বড় প্রতিষ্ঠানও দেশের এই ক্রান্তিকালে হাত গুঁটিয়ে নিয়েছে। আবার তারাই এই সংকটকালীন সময়ে বাঁক স্বাধীনতার অপব্যবহার করে প্রায় সময়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ নিজেদের তৈরি গন মাধ্যমগুলোতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী,সাংসদ সহ সরকারি কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে চালাচ্ছেন যা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বেমানান। তাই সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ সহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে আরও সতর্কে থাকতে হবে যাতে করে সরকারি কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোন অপপ্রচার কিংবা কেউ কোন গুজব ছড়াতে না পারে।

আরেকটি বিষয় হলো আমাদের দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে উঠার জন্য সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের পেরিফেরিগুলোতে স্থাপিত বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালোমানের একাডেমিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে এসব ল্যাব কাজে লাগানোর দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিকমানের ল্যাব আছে সেগুলোকে কাজে লাগানোই সংকটের এসময় জরুরি। তাছাড়া যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্যতম স্থানেই জায়গা দিতে হবে। এইসব গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে যথাযোগ্য ব্যক্তির অভাবে সক্ষমতা হারাতে পারে বাংলাদেশ। তাই সরকারকে অবশ্যই এইসব বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। এছাড়া আমাদের দেশের চলমান চাকুরী ব্যবস্থায়ও কিছুটা পরিবর্তনের সময় এসেছে কেননা অধিকাংশ সময় দেখা যায় বাইরের দেশ থেকে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক গবেষক, ডাক্তার সরকারি চাকুরীতে প্রবেশের বয়স অতিক্রম হয়ে যাওয়ার কারনে আমাদের দেশের সরকারি চাকুরীর নিয়ম অনুসারে সরকারি চাকুরীতে প্রবেশ করতে পারেন না। এর ফলে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না পাওয়াতে তাদের মধ্যে অধিকাংশই বাইরের দেশে গিয়ে চিকিৎসায় ও গবেষণায় সফলতা দেখাচ্ছেন। যার ফলে আমাদের দেশ অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের সরকারকে এ সকল দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

বর্তমান সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রান নিয়ে দুর্নীতিকারীদের বিরুদ্ধে যেভাবে দল-মত নির্বিশেষে সকলের জন্য তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়েছেন, তা স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতীবাজদের জন্যও ভবিষ্যতের এক অশনিসংকেত।

এখন সমালোচনা করার সময় নয়। বরং সরকারের প্রতি আস্থা রেখে দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি যে যার জায়গা থেকে মানবিকতা ও উদারতার সহিত ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়াই প্রতিটি দেশ প্রেমিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। কেননা একতাই শক্তি, একতাই বল। আমরা বাঙ্গালী জাতি যেভাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে দল-মত নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে পাকিস্তানীদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলাম , ঠিক সেই একইভাবে দেশ ও জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে এই মহামারী কাটিয়ে উঠতে সফল হবো।

লেখক: সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন(ইউজিসি) এবং পরিচালক, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত