বাংলাদেশের উন্নয়নের রেলগাড়ি আওয়ামী লীগ

1264

Published on জুন 14, 2021
  • Details Image

তাজিন মাবুদ ইমনঃ  

এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালের ২৩ এ জুন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক এবং বাঙ্গালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে এই সংগঠন টির পথচলা শুরু হয়ে আজ ও পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এর নেতৃত্বে এই সংগঠন দেশের জনগনের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

১৯৪৯ সাল থেকে দেশের প্রতিটি ন্যায়ের অধিকার আন্দোলনে সামনে থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।১৯৯৬-২০০১ পাঁচ বছর ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সময়।শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বাঙালি জাতির গর্ব ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করে।২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৬৪টি আসন লাভ করে।২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা।২০১৮ সালে চতুর্থ বারের মত নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন।

উন্নয়নের মহান রুপকার, গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তাধারা ও যুগোপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশ থেকে দূর হয়েছে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বেকারত্ব। শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাসহ দেশের প্রতিটি সেক্টরে হয়েছে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।বঙ্গবন্ধু এর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। প্রতি বছরের শুরুর দিন ২ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া হচ্ছে।স্কুলে নতুন নতুন ভবন নির্মাণ, উপবৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে বইসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছে।‘মিড ডে মিল’প্রকল্পের আওতায় মুজিব বর্ষে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের দুপুরের টিফিন দেয়া হবে।২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার শিক্ষায় বরাদ্দ দিয়েছে ১১.৬৯%।

যখন আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি তখন দেখতাম বিদ্যুৎ সোনার হরিনের মত।দিনে ১০,২০বার যাওয়া তখন স্বাভাবিক ছিল।কিন্তু বর্তমানে বেশিরভাগ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায়।বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের সাফল্য বিস্ময়কর। ২০১৯ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন এর ক্ষমতা ২২,৫৬২ মেগাওয়াট।দেশের ৯৪ শতাংশ জনগণ এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।দেশে মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২.৮ বছর। নারীর ৭৩ এবং পুরুষের ৭০। পাঁচ বছরের বয়সী শিশু মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ৩৪.২ জন। গত ১০ বছরে ৭৪ ভাগ কমেছে।সারা দেশে ১৩৪৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছে।কয়েক দফায় গত ১০ বছরে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ৫শত অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৪৫টি দেশে বাংলাদেশের ঔষধ রপ্তানী হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ। এটি ১১ মে ২০১৮ কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।এর মধ্য দিয়ে ৫৭ তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশের তালিকায় যোগ হয় বাংলাদেশ।বাংলাদেশ সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণে এক যুগান্তকারী সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়।এই পদ্মা সেতু নিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে।অনেকে বলেছে করতে পারবে না।আজ সেই পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হয়েছে ৬.১৫ কি.মি।ঢাকার দিয়াবাড়ীতে মেট্রোরেল প্রকল্পের সাড়ে আট কিলোমিটার সেটি এখন দৃশ্যমান।এটিতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ যাত্রী চলাচল শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে পাবনার রূপপুরে, যেখানে দুটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট করে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।২০২১ সালের শেষ দিকেই রামপাল থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসতে শুরু করবে।পায়রা বিদ্যুৎ নির্মান প্রকল্প প্রায় শেষের দিকে।২০২০ সালে দেশের মাথাপিছু গড় আয় ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০৯ ডলারে।আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৭০ শতাংশ হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।দেশের বৃহত্তম ইকোনোমিক জোন হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে হচ্ছে দেশের প্রথম কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ।বাংলাদেশের ব্যাংক রিজার্ভ ২৯ কোটি বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। যা রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সরকারি ব্যাংকসমূহে চাকরি আবেদন বিনামূল্যে করে দিয়েছে সরকার। এসব উন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ‘সাউথ-সাউথ এওয়ার্ড’ ইত্যাদি পুরস্কার লাভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিশ্বব্যাপি মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস।বাংলাদেশে ও ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস।বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগে থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন।যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাংলাদেশ প্রায় সাত কোটি মধ্যবিত্ত এবং অসহায় পরিবারকে বাংলাদেশ সরকার এবং আওয়ামী লীগ এর পক্ষ হতে ত্রান দেওয়া হয়েছে।এই ত্রান বণ্টন করার সময় অনেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার সাথে সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর নির্দেশে তাদের কে শাস্তির আওতায় আনা হয়।যখন এই মহামারি তে কৃষক দের ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর নির্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর প্রতিটা নেতা কর্মী স্বেচ্ছায় কৃষক দের ধান কেটে দিয়ে আবার কৃষক দের ঘরে পৌছে দেই।৫০লাখ পরিবারকে মোবাইলের মাধ্যমে ২৫০০টাকা করে উপহার দেওয়া হয়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর নির্দেশে প্রায় ৫হাজার চিকিৎসক একসাথে নিয়োগ দেওয়া হয়।এবং প্রতি টা জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের অগ্রগতি উদাহরণ দেওয়ার মতোই। অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক বেশির ভাগ সূচকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়াকে।বর্তমানে যখন পৃথিবীর গভীর গভীতর অসুখ, বাংলাদেশও ধুঁকছে এক অচেনা ও অশরীরী শত্রুর আক্রমণে তখন সকল দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়ে শেখ হাসিনা একাই লড়ছেন।তিনিই দিচ্ছেন সকল নির্দেশনা। আর্থিক প্রণোদনা, দরিদ্র ও তৃণমূল মানুষের জন্য অর্থ সহযোগিতা, চিকিৎসা সেবা, সামাজিক সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা সবক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত এবং সিদ্ধান্তের ত্বরিত বাস্তবায়ন সবই সম্ভব হচ্ছে শুধুমাত্র নেতৃত্বের সুদক্ষতায়। দেশের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বিশ্ব ও আঞ্চলিক সঙ্কট মোকাবেলায় তিনি যেভাবে, যতটুকু ভূমিকা রাখছেন তার প্রশংসা করছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলোও।নানা দুর্যোগে বড়-ছোট দেশের জন্য শেখ হাসিনা যেভাবে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য বয়ে এনেছে সম্মান।বিশ্বমাঝে বাংলাদেশের পরিচিতি এখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিচয়ে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর ৭২ তম প্রতিষ্টাবার্ষিকী আমার পক্ষ হতে অভিনন্দন এবং শুভ কামনা।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা'র গতিশীল নেতৃত্বে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর লক্ষ্যে, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে কার্যকরী পদক্ষেপের বাস্তবায়ন-ই হোক।

লেখক: শিক্ষার্থী, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত