217
Published on জুন 23, 2026ইতিহাসে কিছু রাজনৈতিক দলের জন্ম হয় ক্ষমতার সমীকরণ থেকে, আর কিছু রাজনৈতিক দলের জন্ম হয় একটি জাতির গভীর আকাঙ্ক্ষা, অধিকারবোধ ও অস্তিত্বের প্রশ্ন থেকে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম সেই দ্বিতীয় ধারার একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যার জন্ম হয়েছিল অন্যায়, বৈষম্য ও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে যে রাজনৈতিক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সাত দশকেরও বেশি সময় পর সেই দলটি শুধু বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং বাঙালির জাতীয় বিকাশ, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য এক অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানে শুধু একটি দলের সাংগঠনিক বিবর্তনের ইতিহাস নয়; এটি এক ভূখণ্ডের মানুষের অধিকার আদায়ের ইতিহাস। ভাষার অধিকার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক মুক্তি, স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা—বাঙালির প্রতিটি বড় রাজনৈতিক বাঁকে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও পূর্ব বাংলার মানুষের প্রত্যাশা দ্রুতই হতাশায় পরিণত হয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র পশ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত হওয়া, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সাংস্কৃতিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার মানুষের সংগঠিত প্রতিরোধের সূচনা করতে পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল ধারার নেতারা উপলব্ধি করেন যে জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন। সেই প্রয়োজন থেকেই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং কারাবন্দি তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বন্দী অবস্থায়ও শেখ মুজিবের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছিল দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্ব—যা পরবর্তী ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের সামনে সহজ কোনো পথ ছিল না। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র, বিভাজন ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করেই আওয়ামী লীগকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের বাস্তবতা হলো—যে রাজনৈতিক শক্তির শিকড় জনগণের মধ্যে বিস্তৃত থাকে, তাকে কেবল প্রশাসনিক শক্তি দিয়ে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বিরোধী মতকে দমন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ দ্রুতই বুঝতে পারে যে জনগণের কাছে যেতে হলে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, প্রয়োজন মানুষের জীবনযন্ত্রণাকে রাজনৈতিক দাবিতে পরিণত করা। এই কারণেই দলটি অল্প সময়ের মধ্যেই পূর্ব বাংলার মানুষের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক আশ্রয়ে পরিণত হয়।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় চেতনার ইতিহাসে একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। ভাষার প্রশ্নে পাকিস্তানি শাসকদের অবস্থান যে শুধু ভাষাগত অন্যায় ছিল না, বরং বাঙালির সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের ওপর আঘাত ছিল—এই উপলব্ধি থেকেই জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ভাষার অধিকার পরবর্তীতে বাঙালির রাজনৈতিক মুক্তির অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় ছিল পাকিস্তানি শাসক কাঠামোর বিরুদ্ধে জনগণের প্রথম বড় রাজনৈতিক রায়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন এই জোটের সাফল্য দেখিয়ে দেয় যে পূর্ব বাংলার মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সেই গণরায়কে সম্মান না করে নির্বাচিত সরকার বাতিল করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে পাকিস্তানি রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা কতটা গভীর ছিল।
১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নাম গ্রহণ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তর। এটি ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন রাজনৈতিক দর্শনের দিকে যাত্রা। দলটি বুঝেছিল, বাঙালির মুক্তির প্রশ্ন কোনো একটি ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন।
১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলন আওয়ামী লীগের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। আন্তর্জাতিক নীতি ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে দল বিভাজনের মুখে পড়ে। মওলানা ভাসানী আলাদা রাজনৈতিক সংগঠন গঠন করেন। ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। আর মূল দল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান বহাল থাকেন।অনেকেই তখন মনে করেছিলেন আওয়ামী লীগ দুর্বল হয়ে যাবে। কিন্তু ইতিহাস দেখিয়েছে, সংগঠনটির মূল শক্তি ছিল তার কর্মী ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু দমন করে রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায়নি। ১৯৬৪ সালে দল পুনরুজ্জীবিত হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান আবার সংগঠনকে নতুনভাবে শক্তিশালী করার কাজে মনোযোগ দেন।
১৯৬৬ সালের ছয় দফা ছিল আওয়ামী লীগের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাঁকগুলোর একটি। শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফার মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারকে স্পষ্ট দাবিতে রূপ দেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এটিকে বিচ্ছিন্নতার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখলেও সাধারণ মানুষ এটিকে নিজেদের মুক্তির সনদ হিসেবে গ্রহণ করে। আগরতলা মামলা, গ্রেফতার এবং নির্যাতনের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে শেখ মুজিব আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ—সবকিছুই ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় ছিল জনগণের স্পষ্ট রায়। কিন্তু সেই রায় অগ্রাহ্য করায় পরিস্থিতি স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে ১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র করে। গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগকে দুর্বল করার চেষ্টা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে রাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা রুখে দেয়। সেই সময়ও আওয়ামী লীগ কে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সকল বাঁধা পেরিয়ে দলটি আবারও সংগঠিত হয়।
১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ ছিল দলের পুনর্জাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ করেন। পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২১ বছর বাংলাদেশের গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে দলটি আবার ক্ষমতায় আসে এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এই সময়কে বাংলাদেশের জনগণ দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করেন। এই সময়ে দেশের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি, বিদ্যুৎ সুবিধার বিস্তার, মহাসড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি—এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরে। যে বাংলাদেশ একসময় দারিদ্র্য ও দুর্যোগের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল, সেটিই ধীরে ধীরে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক সূচকের উন্নতি এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তন দেশকে একটি উদীয়মান রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
তবে ২০২৪ সাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি দুর্দশার অমানিশা নেমে আসে। ওই সময় পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার এবং সহিংসতার মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয় সম্পুর্ণ প্রতারণা ও অবৈধ অসাংবিধানিক দখলদারিত্বের মাধ্যমে। পাকি চেতনায় বিশ্বাসীরা তাদের পরিচয় গোপন করেছে, তাদের আসল চেহারা জনগণকে বুঝতে দেয়নি। "বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই" শ্লোগান দিয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। ম্যাটিকুলাস প্ল্যান করে রক্তের হোলি খেলা খেলে স্নাইপার রাইফেল দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যার মাধ্যমে লাশের অপরাজনীতি বাস্তবায়ন করে। ৫ আগষ্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলুন্ঠিত করে, পাকি চেতনায় ফিরে যায় রাজাকার আলবদরদের বংশধরেরা। কত কষ্ট করে দিনরাত পরিশ্রম করে সুন্দর করে সাজানো দেশটা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায় একাত্তরের পরাজিত শক্তি। এই পরিবর্তনের ফলে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের মানুষ এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন তাদের প্রিয় নেত্রীর দেশে ফেরার অপেক্ষার প্রহর গুনছে, দেশ বাঁচাতে শেখ হাসিনার ফিরে আসার জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করছে।
আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী তাই শুধু অতীত স্মরণের দিন নয়; এটি একটি রাজনৈতিক আত্মপর্যালোচনার সময়ও। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি যেমন বড় অর্জনের সাক্ষী হয়েছে, তেমনি কঠিন সংকটের মধ্য দিয়েও গেছে। কিন্তু প্রতিটি সংকটের পর দলটি নতুনভাবে সংগঠিত হয়েছে—এটাই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
রোজ গার্ডেন থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজ এসে দাঁড়িয়েছে এক নতুন বাস্তবতার সামনে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস দেখায়, বারবার সংকট, বিভাজন ও আঘাতের পরও দলটি পুনর্গঠিত হয়েছে। কারণ তার ভিত্তি শুধু ক্ষমতায় নয়, একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত।
বর্তমান বাস্তবতায় অনেক মানুষ অতীত ও বর্তমানের তুলনা করছে। অবকাঠামো, অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার অর্জনগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা করছে। বর্তমান সরকারের মনে রাখা উচিৎ, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র সাময়িকভাবে কোনো সংগঠনকে দুর্বল করতে পারে, কিন্তু জনগণের দীর্ঘদিনের আস্থা ও ঐতিহাসিক ভূমিকা সহজে মুছে ফেলা যায় না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রক্ত দিয়ে কিনে, যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে এই বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের। জনগণের অধিকার আদায়ের দল আওয়ামী লীগ আছে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে, বাংলাদেশের অস্তিত্বে।
আগুনের দিন শীঘ্রই শেষ হবে, বাংলাদেশ আবারও উন্নয়ন শান্তি ও অগ্রগতি পথে ফিরে যাবে - এই প্রত্যাশা নিয়েই কোটি মানুষ শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছে।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
লেখক: কৃষিবিদ দীপু, পেশাজীবি ও কলামিস্ট।