43
Published on জুলাই 14, 2026২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত রাষ্ঠীয় মদদে সুপরিকল্পিত গনহত্যার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর কালো অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কসাই আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান বা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পর, সেদিন কালো অধ্যায় রচিত হয়েছিল অবৈধ, খুনি, ফ্যাসিষ্ট, দেশবিরোধী গণশত্রু ইউনূসের প্রত্যক্ষ নির্দেশে। তথাকথিত দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী নির্বিচারে গুলি করে গণহত্যার মাধ্যমে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী আন্দোলন পরবর্তীতে সরকারি মদদে কিংস পার্টির ন্যায় গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী - মব সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপি "মার্চ টু গোপালগঞ্জ" নামক এক বিতর্কিত কর্মসূচির মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা ও গোপালগঞ্জকে নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলে, তার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণ রাজপথে নেমে আসে। সন্ত্রাসী সংগঠন এনসিপি-কে সহায়তার জন্য এগিয়ে যায় সেনাবাহিনী সহ রাষ্ট্রের সকল বাহিনী। চিন্হিত জঙ্গিদের রক্ষার্থে সাধারণ জনগণের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় তথাকথিত দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ।
সেদিন সেনাবাহিনীর নিরীহ জনগণের উপর চালানো মধ্যযুগীয় কায়দায় চালানো হত্যাযজ্ঞ ও নির্মমতা সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছিলো। দেশ ও সারা বিশ্ব একযোগে নিন্দা জানিয়েছিল। পরবর্তীতে, খুনি, ফ্যাসিষ্ট, গণশত্রু ইউনুসের নির্দেশে কার্ফু জারি করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গোপালগঞ্জের প্রতিটি ঘরে ঘরে ঢুকে নিরীহ মানুষের উপর চালায় নির্যাতনের স্ট্রিম রোলার। নির্মম অত্যাচারে হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। সেনাবাহিনী বুটের তলায় পিষ্ট ও গুলি করে হত্যা করে দীপ্ত সাহা, রমজান আলী, সোহেল মোল্লা, ইমন, রমজান মুন্সিসহ অনেককে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী নির্মম হত্যার শিকার শহীদদের লাশ ময়নাতদন্ত না করে রাতের আঁধারে জোড় পূর্বক দাফন করে দেয়। গোপালগঞ্জ গণহত্যায় সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, তাদের স্মৃতি চির অম্লান থাকুক এবং আহতদের প্রতি অন্তরের অন্তস্থল থেকে সমবেদনা জ্ঞাপন।
লেখকঃ মো: আনিসুর রহমান মুরাদ, সাবেক সদস্য, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব, যুক্তরাজ্য; সাবেক কার্যকরী সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ; সংগঠক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ।