⁨শুভ জন্মদিন সজীব ওয়াজেদ জয়- যাঁর কাছে জাতির অসীম প্রত্যাশা

6396

Published on জুলাই 27, 2026
  • Details Image

লক্ষ্য যাঁর স্থির, অন্তরে যাঁর মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দেশমাতৃকাকে এগিয়ে নেওয়ার ব্রত তাঁকেই মানায়। যাঁর চিন্তায়-চেতনায় প্রগতির আকাঙ্ক্ষা, দৃষ্টি যাঁর লক্ষ্যভেদী- যেকোনো বাধাকে তিনি তুচ্ছজ্ঞান করে এগিয়ে যেতে পারেন। সেই অগ্রগামীদের একজন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাই দেশের যেকোনো সংকটে, যেকোনো ক্রান্তিকালে তিনিই তো সামনে এসে দাঁড়াবেন। পথ দেখাবেন বিপদগ্রস্ত বাঙালি জাতিসত্তাকে। এগিয়ে নেবেন সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের তৃতীয় প্রজন্ম তিনি। বাংলাদেশের সমান বয়সী সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায়। তিনি উচ্চশিক্ষিত। যেকোনো দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার যোগ্যতা ও ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। ভারত থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০০৭ সালে তিনি ২৫০ তরুণ বিশ্বনেতার মধ্যে একজন হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন।

শুধু রাজনীতি সচেতন পারিবারিক ঐতিহ্য নয়, বাস্তবেও তিনি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে তিনি অনেক আগে থেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত। ২০০৮ সালের জুন মাসে শেখ হাসিনাকে সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারাগার থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘মানুষের দায় মহামানবের দায়, কোথাও তার সীমা নেই। অন্তহীন সাধনার ক্ষেত্রে তার বাস। জন্তুদের বাস ভূমণ্ডলে, মানুষের বাস সেইখানে যাকে সে বলে তার দেশ। দেশ কেবল ভৌমিক নয়, দেশ মানসিক। মানুষে মানুষে মিলিয়ে এই দেশ জ্ঞানে জ্ঞানে, কর্মে কর্মে। যুগ-যুগান্তরের প্রবাহিত চিন্তাধারায় প্রীতিধারায় দেশের মন ফলে শস্যে সমৃদ্ধ। বহু লোকের আত্মত্যাগে দেশের গৌরব সমুজ্জ্বল। যে-সব দেশবাসী অতীত কালের তাঁরা বস্তুত বাস করতেন ভবিষ্যতে। তাঁদের ইচ্ছার গতি কর্মের গতি ছিল আগামীকালের অভিমুখে। তাঁদের তপস্যার ভবিষ্যৎ আজ বর্তমান হয়েছে আমাদের মধ্যে, কিন্তু আবদ্ধ হয়নি। আবার আমরাও দেশের ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে উৎসর্গ করছি। সেই ভবিষ্যতকে ব্যক্তিগতরূপে আমরা ভোগ করব না।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরেকটি নিবন্ধের ভাবার্থ এ রকম, সত্যের কোনো বিকল্প নেই। সত্যকে আশ্রয় করেই মানুষকে চলতে হয়। সত্যকে এড়িয়ে অসত্যকে আশ্রয় করে যাদের পথচলা, তাদের যাত্রাপথে একদিন বিরতি পড়বেই।

আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার টেনে নিয়ে যাওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। ভারতের রাজনীতির পারিবারিক ধারায় লক্ষ করলে দেখা যায়, জওয়াহেরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী তাঁর পিতার যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন। তারপর রাজীব গান্ধী হয়ে রাহুল গান্ধী। জুলফিকার আলী ভুট্টোর মেয়ে বেনজির ভুট্টো, তাঁর স্বামী ও ছেলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা যেমন সত্য, তেমনি শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েকে পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় লক্ষণীয়। ঠিক একইভাবে ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার রাজনীতিতে অভিষেক। তারই ধারাবাহিকতায় সজীব ওয়াজেদ জয় তরুণ কর্মীদের উজ্জীবিত করে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছেন। নানা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মা শেখ হাসিনার মতো আন্তরিক হৃদ্যতায় সাধারণ মানুষকে কাছে টানার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁরও রয়েছে। তিনি সচেতন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সহজেই। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে সজীব ওয়াজেদ জয় যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনিবার্য হয়ে উঠবেন, এটা স্বাভাবিক ঘটনা। বাংলাদেশের রাজনীতির গণতান্ত্রিক ধারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। স্বাভাবিকভাবেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের পাঁচবারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য উত্তরসূরি সজীব ওয়াজেদ জয়। সংগত কারণেই তৃতীয় প্রজন্মের এই নেতৃত্বের প্রতি কেন্দ্রীভূত দেশের বেশির ভাগ মানুষের দৃষ্টি।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘মানুষও আপন অন্তরের গভীরতর চেষ্টার প্রতি লক্ষ্য করে অনুভব করেছে যে সে শুধু ব্যক্তিগত মানুষ নয়, সে বিশ্বগত মানুষের একাত্ম।’ সজীব ওয়াজেদ জয় রবীন্দ্রনাথের সেই মানুষ, যিনি ‘ব্যক্তিগত নন’। ব্যক্তিগত সীমাকে ছাড়িয়ে তিনি পৌঁছে গেছেন সমষ্টিগত মানুষের কাছে। অন্তরে যাঁর দেশমাতৃকাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন এবং ব্রত, তিনি যেকোনো বাধাকেই তুচ্ছজ্ঞান করে এগিয়ে যেতে পারেন। ইসক্রা বা স্ফুলিঙ্গ থেকে যেমন জ্বলে ওঠে মশাল কিংবা দাবানল, তেমনি আজকের দিনের তারুণ্যই আগামী দিনের নেতৃত্বের পথটি দেখিয়ে দিতে পারে। যেমন দেখিয়ে দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। রাজনীতির উত্তরাধিকারসূত্রেই এখন তিনি রাজনীতির মঞ্চে।

আজ থেকে বহু বছর আগে জগদীশচন্দ্র বসুকে যেভাবে স্বাগত জানিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সেখান থেকে উদ্ধৃত করে বলি, ‘জয় তব হোক জয়!/স্বদেশের গলে দাও তুমি তুলে/যশোমালা তুমি অক্ষয়!/অবারিত গতি তব জয়রথ/ফিরে যেন আজি সকল জগৎ।/দুঃখ দীনতা যা আছে মোদের/তোমারে বাঁধি না রয়।’

বাংলাদেশ আজ রাহুগ্রস্ত। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের স্বার্থের বলি হচ্ছে বাংলাদেশ। হায়েনাদের কবলে পড়ে দেশ আজ আর্তনাদ করছে। চারদিকে মৃত্যুর হাতছানি। রক্তের হোলি খেলা চলছে দেশজুড়ে। বিপদে আছে দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষ। এই বিপদে সিংহহৃদয় বীরের পক্ষে কোনোভাবেই নিরব থাকা সম্ভব নয়। তিনি অবশ্যই ফিরে আসবেন প্রিয় মানুষদের কাছে। নেতৃত্ব দেবেন দেশের দুঃসময়ে। এটি সময়ের প্রত্যাশা। প্রত্যেক বাঙালি হৃদয়ের প্রত্যাশা।

শুভ জন্মদিন প্রিয় নেতা সজীব ওয়াজেদ জয়।

লেখক: এম. নজরুল ইসলাম, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং অস্ট্রিয়াপ্রবাসী মানবাধিকারকর্মী, লেখক ও সাংবাদিক⁩

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত