1
Published on আগস্ট 4, 2026নরঘাতক জিয়ার আসল চেহারা: "এক হাতে হত্যা, অন্য হাতে আহার"
প্রখ্যাত সাংবাদিক এন্থনী মাসকারেনহাস তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড'-এ জিয়াউর রহমানের চরম নৃশংস ও মনস্তাত্ত্বিক ঘাতক রূপ তুলে ধরেছেন। জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক সামরিক সহচরকে মাসকারেনহাস যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন, "রাষ্ট্রপতি জিয়া কেমন মানুষ ছিলেন?"—তখন সেই ব্যক্তি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থমকে থেকে, ঢোক গিলে ফিসফিসিয়ে জবাব দিয়েছিলেন:
"জেনারেল জিয়া এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি এক হাতে মানুষকে হত্যা করে অন্য হাতে নিশ্চিন্তে আহার করতে পারতেন।"
এই এক লাইনেই উন্মোচিত হয় জেনারেল জিয়ার হিংস্র, রক্তপিপাসু ও খোলস পরিহিত মানবতাবিরোধী চরিত্র। তাঁর সময়ে 'আইনের শাসন' বলতে কিছু ছিল না; তাঁর ইচ্ছা ও কলমের দাগই ছিল তৎকালীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাজারো সৈনিকের মৃত্যুপরোয়ানা।
সামরিক আদালতে হত্যাযজ্ঞঃ
১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ১,১৪৩ জন নিরীহ সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্য এবং বহু অফিসারকে ক্যাঙ্গারু কোর্টে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেন।
নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে ফাঁসি: জিয়া নিজেই মৃত্যুর আদেশ লিখতেন এবং নির্দয়ভাবে নোটে সই করতেন: "যতক্ষণ ওরা না মরে, ততক্ষণ ওদের গলায় ফাঁসি ঝুলিয়ে রাখো।
কোর্ট মার্শালের নামে প্রহসন: আর্মি অ্যাক্ট অনুযায়ী সামরিক আদালতে বিচারকের পদে লে. কর্নেল ও ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের থাকার কথা থাকলেও, জিয়া ক্ষমতার লোভে সেই আইন সংশোধন করে একজন লে. কর্নেলের সাথে হাবিলদার ও সুবেদারদের বসিয়ে বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল (যেমন: মার্শাল ল ট্রাইব্যুনাল নং-১৮, কেস নং-১/১৯৭৭) বানিয়ে পাইকারি হারে হত্যাকাণ্ড চালান।
মুক্তিযুদ্ধের বীর কর্নেল তাহের হত্যা: যে একপায়ে যুদ্ধ করা বীর প্রতীক সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের কারণে জিয়া বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছিলেন, ক্ষমতায় বুঁদ হয়ে সেই তাহেরকেই জিয়া সামরিক ট্রাইব্যুনালের নামে প্রহসন করে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করেন।
৭৫-এর মাস্টারমাইন্ড জিয়া ও কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশঃ
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট—বাঙালির অভিশপ্ত ও চিরশোকের দিন। স্বাধীনতাবিরোধী নরপিচাশ চক্রের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে শহীদ হন ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ কামাল, শেখ জামাল, অবুঝ শিশু শেখ রাসেলসহ পরিবারের অপরাপর সদস্যরা।
এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে পর্দার আ অন্তরালে আসল অনুঘটক ও মাস্টারমাইন্ড ছিলেন স্বয়ং জিয়াউর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করতে খুনি মোশতাক ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যে কুখ্যাত 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' জারি করেছিল, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বসে ১৯৭৯ সালে সংসদ ও ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে সেটিকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে আইনি বৈধতা দেন।
- জিয়ার কারণেই ঘাতক চক্র দীর্ঘ ২১ বছর কোনো বিচারের মুখোমুখি না হয়ে পুরস্কৃত হয়েছে এবং বাঙালি জাতি বহন করেছে কালিমালিপ্ত বিচারহীনতার গ্লানি।
পিতার উত্তরসূরি তারেক রহমান: ২১ আগস্টের ভয়াবহ 'অপারেশন লাইট স্ন্যাক্স'ঃ
খুনি পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই বিএনপি-জামায়াত জোটে আবির্ভূত হয় তারেক রহমান। পিতার মতো তারেক এবং খালেদা জিয়ার রাজনীতিও দাঁড়িয়ে আছে হত্যা, ষড়যন্ত্র ও আওয়ামী লীগ নিধনের ওপর।
২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট ১৯৭১ ও ১৯৭৫-এর পরাজিত শক্তিকে আবার পুনর্বাসিত করে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে সপরিবারে হত্যা করার মতোই চিরতরে শেষ করে দেওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসী গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।
- কুখ্যাত পরিকল্পনা: এই সন্ত্রাসী হামলার সামরিক কোডনেম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন লাইট স্ন্যাক্স ফর শেখ হাসিনা’ (শেখ হাসিনাকে নাস্তা করানো)।
- রক্তাক্ত ২১ আগস্ট: গ্রেনেডের স্প্লিন্টারে ছিন্নভিন্ন হন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী, আহত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৫০০ জন মানুষ।
খালেদা-তারেক চক্রের নজিরবিহীন বিচারিক প্রহসন ও 'জজ মিয়া' নাটকঃ
২১ আগস্টের পৈশাচিক হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান ক্ষমতার মসনদে বসে আইন, বিচার ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে চরম তামাশায় পরিণত করেছিলেন।
- আলামত ধ্বংস: হামলার পরপরই বিএনপি সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনী আলামত সংরক্ষণের বদলে পানি ছিটিয়ে সব বিস্ফোরক ও সামরিক প্রমাণ মুছে ফেলে। আহতদের ওপর উল্টো টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করা হয়, হাসপাতালে চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হয়।
- সংসদে দাঁড়িয়ে ভিত্তিহীন মিথ্যাচার: খালেদা জিয়া মহান সংসদে দাঁড়িয়ে এক চরম মিথ্যাচার করে বলেছিলেন, "২১ আগস্টের হামলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল।" এমনকি তিনি তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রীকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, "শেখ হাসিনা নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন।"
- জজ মিয়া নাটক: তারেক রহমানকে বাঁচাতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে 'জজ মিয়া' নামের এক দরিদ্র হকারকে ধরে এনে ব্ল্যাকমেইল করে সাজানো জবানবন্দি আদায় করা হয় এবং জজ মিয়ার পরিবারকে মাসোহারা দিয়ে সত্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে।
- সত্যের জয়: পরবর্তীতে সেনা সমর্থিত সরকার এবং ২০০৯ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিরপেক্ষ সিআইডি তদন্তে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরীদের নাম উন্মোচিত হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৮ সালে আদালত লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মূল চক্রান্তকারী তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
রক্তে আঁকা জিয়া-খালেদা-তারেকের অভিন্ন ইতিহাসঃ
পিতা জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও পঁচাত্তর-পরবর্তী হাজারো সেনা সদস্যকে হত্যা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিলেন। আর পুত্র তারেক রহমান ও মাতা খালেদা জিয়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে চিরতরে নিঃশেষ করে বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিলেন।
পিতা ও পুত্রের হাত একই রক্তে রঞ্জিত। হত্যা, ষড়যন্ত্র, বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি এবং উগ্রবাদের পৃষ্ঠপোষকতা—এই তিন মিলেই তৈরি জিয়া, খালেদা ও তারেক রহমানের প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয়।