জেনেভায় বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

7

Published on অক্টোবর 4, 2026
  • Details Image

বাংলাদেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে শুক্রবার জেনেভা প্রেস ক্লাবে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

‘বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট: শিক্ষার অধিকার, নির্বিচারে আটক ও বানোয়াট ট্রাইব্যুনালের রায়’ শীর্ষক এই সেমিনারে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার সাবেক রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, গবেষক ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

সেমিনারে মূল বক্তব্য দেন বাংলাদেশের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। অন্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, পাওলো কাসাকা, ড. সিগফ্রিড ও. উলফ, শিনিচি ফুজিকি, কার্ল গুস্তাভ বিআর্তনেস, অধ্যাপক আলফ্রেড ডি জায়াস, ড. চনসি আয়াচ জোসেফ এবং সুইডিশ আইনজীবী মোনা হাগো স্ট্রিন্ডবার্গ।

গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নমেন্টস ও তুমুকু ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল ইউনিয়ন যৌথভাবে এ আয়োজন করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন। জেনেভা সময় বিকেল ৫টায়, বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।

শেখ হাসিনা: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জনগণের অবাধ ও সচেতন সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হতে হবে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ গুরুতর সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ জনগণের অবাধ ও সচেতন মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মূল বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের ঘটনাগুলো বাংলাদেশে শান্তি বা সমৃদ্ধি বয়ে আনেনি। তিনি বর্তমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নির্বিচারে আটক, রাজনৈতিক প্রভাবিত আইনি কার্যক্রম এবং এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ করেন, যার কারণে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের শিক্ষাজীবন ও পেশাগত ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধান শুধু একটি আইনি দলিল নয়; এটি নাগরিকদের নির্বিচার ক্ষমতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া, আইনের চোখে সমতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভয় দেখানো, কারাবন্দী করা বা প্রতিশোধের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাধানের অঙ্গীকার। তাঁর ভাষায়, বর্তমানে এসব নীতি মারাত্মক চাপের মুখে রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কথিত সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তাহীনতার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করেন এবং বলেন, অনেক ঘটনাই সংবাদমাধ্যমে আসে না। তাঁর মতে, পরিস্থিতিকে শুধু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা হিসেবে দেখলে হবে না; এটি আইন, জননিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংকট।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁদের মর্যাদা বা সনদ হারিয়েছেন এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তরুণ পেশাজীবীদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয়কে কখনোই সম্মিলিত অপরাধের দায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

আটক ও বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক, বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে অথবা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। যেসব পরিস্থিতিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, সমান আচরণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাপে রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন, সেসব ক্ষেত্রে ফৌজদারি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক জীবন থেকে সরিয়ে দিতে বিচারিক ও ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ব্যবহারের যে চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন, তারও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, বিচারিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের জন্য ব্যবহার করা হলে বিচারব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তির জীবন কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ করা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি ও তার সমর্থকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া হলে কোনো নির্বাচনই প্রকৃত অর্থে প্রতিনিধিত্বশীল হতে পারে না। শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জনগণকেই নির্ধারণ করতে হবে।” তাঁর মতে, ভয়, বলপ্রয়োগ বা প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে নয়, জনগণের অবাধ ও সচেতন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তা হতে হবে।

শেখ হাসিনা জাতিসংঘ, গণতান্ত্রিক সরকার, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী সমাজ এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান। তিনি নির্বিচারে আটক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়ন বন্ধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং মতপ্রকাশ, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

১৯৭৫ সালে তাঁর পরিবারের সদস্যদের, তাঁর বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ, হত্যার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে যে প্রতিশোধের ওপর কোনো জাতি তার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে না। তিনি এমন বাংলাদেশের কথা বলেন, যেখানে মানুষ মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করবে, আইন দুর্বল ও শক্তিশালী—উভয়কেই সুরক্ষা দেবে এবং রাষ্ট্র তার নাগরিকদের।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এমন বাংলাদেশ দেখতে চান যেখানে নাগরিকেরা ভয় ছাড়াই আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন, দুর্বল ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে বিপর্যয় ঘটার আগেই সুরক্ষা দেওয়া হয়, অপরাধীরা জবাবদিহির আওতায় আসে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয় না, কারাবন্দীরা যথাযথ চিকিৎসা পান এবং প্রত্যেক নাগরিক আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার ওপর নির্ভর করতে পারেন।

হাবিবে মিল্লাত: আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তা চাপে

গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নমেন্টসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ আইনের শাসন, বিচারিক সুরক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তার অবক্ষয়—এমন একটি বিস্তৃত সংকটের মুখোমুখি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মিল্লাত বলেন, এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মীদের একত্র করা হয়েছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মতামত শোনার পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের জন্য। তিনি দাবি করেন, লাখো মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে ২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে রয়েছে।

মিল্লাত আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন রাজনৈতিক দল হিসেবে তিনি যে আওয়ামী লীগের উল্লেখ করেন, সেই দলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পেশাজীবী, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০০-র বেশি সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন এবং শত শত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও মালিকানা পরিবর্তনের পাশাপাশি চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীর ওপর চাপেরও অভিযোগ করেন তিনি। কারাগারের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি এমন কিছু পরিসংখ্যানের উল্লেখ করেন, যা তাঁর মতে, তীব্র অতিরিক্ত বন্দিত্বের চিত্র তুলে ধরে। রাজনৈতিক বন্দীদের অনেকেই পর্যাপ্ত আইনি ও চিকিৎসা সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মতপ্রকাশ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্বাধীনতা হারিয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ করে জেনেভায় উপস্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আমরা কারও অনুগ্রহ চাই না। আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পেতে চাই। আমরা চাই বাংলাদেশ আবার একটি গণতান্ত্রিক দেশ হয়ে উঠুক।”

পাওলো কাসাকা: গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশকে দেখতে হবে

সাবেক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পাওলো কাসাকা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু সাংবিধানিক বিরোধ বা সাধারণ রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এর সঙ্গে গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগসহ একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংকট জড়িত।

কাসাকা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধীদের বাদ দেওয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ, সাংবাদিকদের ওপর চাপ এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের কারাগারে পাঠানোর অভিযোগগুলো কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রবণতার কথা মনে করিয়ে দেয়। শিক্ষাক্ষেত্রের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও আদর্শিক চাপ একাডেমিক বহুত্ববাদ ও স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

রাজনৈতিক দমন, আদর্শিক পুনর্গঠন এবং নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে আইনের ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে বৃহত্তর সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, তা বোঝাতে তিনি নাৎসি জার্মানি, মাওবাদী চীন, স্ট্যালিন আমলের বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের ঐতিহাসিক উদাহরণ তুলে ধরেন।

কাসাকা বলেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিতর্ক মূল্যায়নে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, সংবিধানের কাঠামো, সংসদীয় ব্যবস্থা বা নির্বাচনী পদ্ধতি নিয়ে কারিগরি আলোচনার কারণে নাগরিকেরা স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে পারছেন কি না এবং সাংবাদিকেরা কারাবন্দী হওয়ার ভয় ছাড়া কাজ করতে পারছেন কি না—এই মৌলিক প্রশ্নগুলো আড়াল হওয়া উচিত নয়।

সিগফ্রিড ও. উলফ: রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ও একাডেমিক স্বাধীনতা গুরুতর চাপে

জার্মানির সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের গবেষণা পরিচালক ড. সিগফ্রিড ও. উলফ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে রাজনৈতিক বহুত্ববাদ সংকুচিত হয়ে আসছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

উলফ বলেন, বাংলাদেশ তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি পড়িয়েছেন, বাংলাদেশে গবেষণা করেছেন এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিচয় আরোপ, ভয় দেখানো এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসকদের ওপর চাপের উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যাচ্ছে।

উলফের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিদের ক্রমবর্ধমানভাবে ‘ফ্যাসিবাদী সহযোগী’ বা ‘আওয়ামী লীগপন্থী’—এ ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এসব পরিচয় হয়রানি, বহিষ্কার বা শারীরিক হামলার যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বাধীনতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং চাপের মুখে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ তোলেন।

ক্যাম্পাসে আদর্শিক মেরুকরণ ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতা বাড়ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এর ফলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নারীর স্বাধীনতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ ও সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, একাডেমিক স্বাধীনতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা, শারীরিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ভয়ভীতি থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন।

শিনিচি ফুজিকি: জবাবদিহির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড মানতে হবে

জাপানি মানবাধিকারকর্মী শিনিচি ফুজিকি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মৌলিক অধিকারগুলো গুরুতর চাপের মধ্যে রয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ার সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়ে—যে সংগঠনটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) স্বীকৃত বলে তিনি জানান—তিনি নির্বিচারে আটক, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ এবং বিচারিক কার্যক্রম আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন ব্যবস্থার কাছে পাঠানো একটি জরুরি আবেদনের কথা উল্লেখ করেন ফুজিকি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গ্রেপ্তার ও আইনি কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, যেখানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, সেখানে আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচারের নিশ্চয়তাগুলো পুরোপুরি মানতে হবে, কারণ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা আর ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তিনি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, অনুপস্থিতিতে বিচার, প্রমাণ যথাযথভাবে প্রকাশ না করা, প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া এবং দুর্বল আপিল ব্যবস্থা ন্যায্য বিচারের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

ফুজিকি পাঁচটি অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রস্তাব দেন—নির্বিচারে আটক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার পর্যালোচনা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ, সংখ্যালঘু ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের স্বাধীন পর্যবেক্ষণ জোরদার করা।

কার্ল গুস্তাভ বিআর্তনেস: উন্নয়নের সঙ্গে মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমান বিচারও থাকতে হবে

সিডস-আফ্রিকার সভাপতি কার্ল গুস্তাভ বিআর্তনেস বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নকে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। সাধারণ নাগরিক নিরাপত্তা, মর্যাদা, ন্যায্য আচরণ, শিক্ষা এবং সম্মানজনক জীবিকার সুযোগ পাচ্ছেন কি না, তার ভিত্তিতেও উন্নয়ন পরিমাপ করা উচিত।

বিআর্তনেস অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর মতে, দরিদ্র নাগরিকদের অভিযোগের বিষয়টি বোঝা, আইনি প্রতিনিধিত্ব পাওয়া এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার সময় চাকরি ধরে রাখা তুলনামূলকভাবে কঠিন। তিনি বলেন, দারিদ্র্যকে কখনো অপরাধের সমতুল্য বিবেচনা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে শোষণ থেকে সুরক্ষা দিতে হবে।

কারাগারে অতিরিক্ত বন্দিত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন বিআর্তনেস। তিনি বলেন, বন্দীর সংখ্যা সরকারি ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি এবং তাঁদের বড় একটি অংশ বিচারাধীন। দীর্ঘ সময় আটক থাকা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ কারাগারের অবকাঠামোর পাশাপাশি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

আটকপ্রক্রিয়া, কারাগারের পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, পুনর্বাসন ও তদারকি পর্যালোচনার জন্য স্বাধীন অর্থায়নে একটি মূল্যায়ন মিশন গঠনের প্রস্তাব দেন বিআর্তনেস। তাঁর মতে, বিচারিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের সঙ্গে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফল যুক্ত করতে হবে।

আলফ্রেড ডি জায়াস: বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা উচিত

জেনেভা স্কুল অব ডিপ্লোম্যাসির অধ্যাপক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা উন্নয়নে জাতিসংঘের সাবেক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অধ্যাপক আলফ্রেড ডি জায়াস বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

ডি জায়াস বলেন, তিনি প্রথমে সেমিনারে শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তবে পরে তাঁর মনে হয়েছে, বাংলাদেশের বিষয়ে আরও তথ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অধিকার রয়েছে এবং জাতিসংঘের বিদ্যমান মানবাধিকার ব্যবস্থাগুলো আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা উচিত।

নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, জোরপূর্বক গুম এবং বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ব্যবস্থার পাশাপাশি বাংলাদেশ যেসব আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষভুক্ত, সেগুলোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক ব্যবস্থাগুলোর কাছে প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দিতে পারে। জেনেভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের আসন্ন জাতিসংঘের বৈঠকগুলোতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডি জায়াস আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক চুক্তির আওতায় আন্তরাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচনা করেন। বাংলাদেশের ঘটনাবলির যথাযথ আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

চনসি আয়াচ জোসেফ: সাংবিধানিক সংকট সমাধানের কেন্দ্রে আইনের শাসন

ক্যামেরুনের সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস অ্যাডভোকেসির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী ড. চনসি আয়াচ জোসেফ বলেন, আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়লে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। তাই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যেকোনো আলোচনার কেন্দ্রে আইনের শাসন থাকা উচিত।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের ভিত্তি হলো ভূখণ্ড, জনগণ, ইতিহাস ও ভাষার মতো মৌলিক উপাদান। সাংবিধানিক সরকারকে শেষ পর্যন্ত জনগণের সেবা করতে হয়। তাঁর মতে, আইন স্পষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া এবং ব্যক্তির পরিচয় বা মর্যাদা অনুযায়ী ভিন্নভাবে প্রয়োগ না করে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

স্বাধীন নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরে জোসেফ বিশেষভাবে এমন একটি স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যা রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বর্ণবৈষম্য এবং মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ও রোজা পার্কসের সঙ্গে সম্পর্কিত নাগরিক অধিকার আন্দোলনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজ যখন বৈষম্যমূলক আইনের মুখোমুখি হয়, তখন আইনি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক বাধ্যবাধকতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, নাগরিকদের অধিকারকে সম্মান, সুরক্ষা ও বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং আইসিসিপিআরের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলে সরকারের পরিবর্তনের বিষয়ে নাগরিকদের অধিকারের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

মোনা হাগো স্ট্রিন্ডবার্গ: ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাতিয়ার করা যাবে না

সুইডিশ আইনজীবী মোনা হাগো স্ট্রিন্ডবার্গ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা বৈধ ও প্রয়োজনীয়। তবে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে কখনোই রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

স্ট্রিন্ডবার্গ বলেন, বাংলাদেশের ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক আইনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেস স্টাডি। কারণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় একদিকে জবাবদিহির প্রয়োজন বাড়ে, অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফৌজদারি বিচারব্যবহার করার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। তবে যেকোনো জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও আইনের শাসন মেনে চলতে হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যাপক অভিযোগ বা জনচাপ—কোনোটিই কোনো ব্যক্তির অপরাধমূলক দায়ের ব্যক্তিগত প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।

আইসিসিপিআরের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে স্ট্রিন্ডবার্গ বলেন, কাউকে নির্বিচারে আটক করা যাবে না। শুধু দেশের আইনে কোনো আটক বৈধ হলেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তা বৈধ হয়ে যায় না। তিনি আটক ব্যক্তিদের নিয়মিত ও কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবিরের মামলাটিও তিনি উল্লেখ করেন এবং জানান, তিনি শাহরিয়ার কবিরের আইনজীবী। তিনি ২০২৫ সালে জাতিসংঘের নির্বিচারে আটকবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি মতামতের উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ওয়ার্কিং গ্রুপ শাহরিয়ার কবিরের আটকের ক্ষেত্রে একাধিক ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল।

স্ট্রিন্ডবার্গ বলেন, এই মামলাটি আটকের আইনি ভিত্তি, আটকের মেয়াদ অব্যাহত রাখার কারণ, বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ এবং আটকের সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সম্পর্ক পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে সংঘটিত গুরুতর অপরাধ তদন্ত ও বিচার করার অধিকার সরকারের রয়েছে। তবে ব্যক্তিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এসব সুরক্ষা উপেক্ষা করা হলে বৈধ জবাবদিহি বাছাই করা বিচারে পরিণত হতে পারে এবং বিচার বিভাগের ওপর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ

সেমিনারে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার অংশগ্রহণকারীরা যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আটক, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান বক্তাদের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী ও জেনেভা প্রেস ক্লাবের সদস্য রহমান মামুন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সঞ্চালনা করেন।

আয়োজকেরা বলেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, আইন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোই এ সেমিনারের উদ্দেশ্য।

আয়োজকেরা আইনের শাসন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত