গুল্লি বয়ে গা, লবণ দেয়ে গা

নারায়ণ বাল্মিক দাস: চা-শ্রমিকদের ‘গুল্লি বয়েগা...লবণ দেয়ে গা...’ বলেছিল পাকিস্তানি সেনারা। না মানায় ২২ জন চা-শ্রমিককে ঘরে নিয়ে গিয়ে সুপারি খাইয়ে অবচেতন করে হত্যা করা হয়। সেই হত্যাযজ্ঞে আমিই একমাত্র জীবিত। আজও বয়ে বেড়াই ভয়ংকর মুহূর্তগুলো। এখনো সবিস্ময়ে ভাবি, ২২ জনের মধ্যে ২১ জন মারা পড়ল, আমি বাঁচলাম কেমনে! মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে হানাদার বাহিনী ...

জগন্নাথ হলেই ছিলাম

কালীরঞ্জন শীলঃ মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোটি মানুষের স্বপ্নে, ত্যাগে, বীরত্বে রচিত হয়েছে এর ইতিহাস। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর মুখে মুক্তিযুদ্ধের কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। আজকের জানাবো ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যার বিবরণ। আমি থাকতাম জগন্নাথ হলের দক্ষিণ বাড়ির ২৩৫ নম্বর কক্ষে। খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে...

প্রবাসী মন্ত্রীসভার শপথের অপেক্ষা

একাত্তরের ১৬ এপ্রিল একদিকে পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রবাসী মু্জিব নগর সরকারে শপথ গ্রহণের গোপন প্রস্ততি চলতে তাকে। এদিন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়। চুয়াডাঙ্গায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলায় মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তর সরিয়ে ভৈরব নদের অন্য পাড়ে ইছাখালী ...

জেনেভায় বঙ্গবন্ধু

ওয়ালিউর রহমানঃ ১৯৭২ সালে মার্চের শেষে জেনেভায় যাওয়ার আগে হঠাৎ বঙ্গবন্ধুর একটি টেলিফোন পেলাম। তিনি বললেন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্টের একটি ড্র্যাফট পাঠালাম, তুই একটু দেখতো। এই মহান মানুষটি সম্পর্কে যখন লিখতে যাই তখন কেমন জানি আনমনা হয়ে যাই। হারিয়ে যাই সেই অতীতের স্মৃতিতে। তখন চোখ দুটি অশ্রুতে ছল ছল করে ওঠে। এই মহান মানুষটিকে একনজর দেখার জন্য দূ...

১০ এপ্রিল ‘বাংলাদেশ সরকার’ এর সুবর্ণ জয়ন্তী

সুভাষ সিংহ রায়ঃ কেউ বলেন প্রবাসী সরকার, কেউ বলেন মুজিব নগর সরকার, কেউ বলেন অস্থায়ী সরকার, কেউ বলেন বিপ্লবী সরকার; আসলে কোনওটাই সঠিক নয়। প্রকৃতার্থে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ২০২১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের সুবর্ণ জয়ন্তী। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্পষ্ট ক...

আমার বাবার ছেলেবেলা: শেখ রেহানা

জাতির পিতার শততম জন্মদিনে ছোট্ট সোনামনিদের সামনে বঙ্গবন্ধুর শৈশবের গল্প শোনালেন তার ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বুধবার ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুলের এক অনুষ্ঠানে ‘আমার বাবার ছেলেবেলা’ শিরোনামে এক বক্তৃতায় তিনি বঙ্গবন্ধুর শৈশবের নানা ঘটনার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক জীবনের নানা বাঁকের কথা তুলে আনেন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ব...

আমার বাবার ছেলেবেলা- শেখ রেহানা | বঙ্গবন্ধুর শৈশব

বাংলাদেশ আজ ১৭ মার্চ-২০২১ বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম শুভ জন্মদিন উদযাপন করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের জাতির পিতার জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদরের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর অমূল্য কিছু স্মৃতি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন । টুঙ্গিপাড়ার শ্যামল পরিবেশে শেখ মুজিবের জীবন কাটে দুরন্তপ...

শেখ রাসেলঃ একটি ফুলের মতো শিশু

বেবী মওদুদ: বঙ্গবন্ধু-পরিবারের ছোট্ট ছেলে শেখ রাসেলের জন্ম ১৮ অক্টোবর ১৯৬৪ সালে, ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে। শেখ রেহানার জন্মের ৮ বছর পর তাঁর জন্ম হয় – আনন্দে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল সেদিন সারা বাড়ি। বড় ভাইবোনরা যেন একটা সোনার পুতুল পেয়েছে। সবার কৌতূহল-আনন্দ ও উষ্ণতায় শেখ রাসেল সেদিন বড় বড় দু চোখ মেলে তাকিয়েছিল, ছোট্ট ছোট্ট মুষ্টিবদ্ধ হাত ...

দুঃসাহসী শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ার, এনডিসি (অব.): ডেটলাইন ২৭ জুন ১৯৭৫। স্বর্গীয় মাধুরীতে ভরা ইংল্যান্ডে এখন গ্রীষ্মকাল। প্রকৃতিতে সৌন্দর্যের বন্যা বইছে। কিন্তু এর চেয়েও আনন্দের বন্যা আজ ব্রিটেনের রয়াল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টের ক্যাডেটদের মনে-প্রাণে। ছয় মাস কঠোর প্রশিক্ষণের পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রার্থিত সভরিন (পার্সিং আউট) প্যারেড। আজ প্যারেড রিভিউ করছেন রাজকুমা...

হত্যা ষড়যন্ত্র ও আমার বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভূমিকা বাঙালি তথা সারাবিশ্ব মনে রাখবে। আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপিত হবে। টুঙ্গিপাড়ায় এক কৃষক পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। সেখান থেকে নিজের রাজনৈতিক দক্ষতা ও স্মরণ শক্তির গুণে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের জনক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান চির উজ্জ্বল। কলকাতায় ছাত্র-জীবনে তিনি মুহাম্মদ আলী জ...

‘এই লভিনু সঙ্গ তব’

গীতালি দাশগুপ্তাঃ “ঐ মহামানব আসে / দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে / মর্ত ধূলির ঘাসে ঘাসে।” আজ ইংরেজির ২০২০ সাল। এখন থেকে শত বছর আগে অর্থাৎ ইংরেজি ১৯২০ সালে প্রত্যন্ত অজপাড়াগাঁয়ে জন্মেছিলেন এক মুষ্টিবদ্ধ শিশু। সেদিন সেই গাঁয়ের নাম এমনিভাবে বিকশিত ছিল না। ছিল না মানুষের মুখেও সেই গাঁয়ের নামটি। কখনও খুব একটা শোনাও যায়নি। অথচ আজ, সেই অজপাড়াগাঁয়ের নামটি ...

স্মৃতির মণিকোঠায় বঙ্গবন্ধু

এইচ টি ইমাম: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে জানাই তার প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তার সাথে রয়েছে বাঙালির আত্মার সংযোগ; বাঙালি খুঁজে পেয়েছে আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। তিনি এমনভাবে আমাদের জীবনে-কর্মে-হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, যেন মনে হয় আমাদের মাঝেই আছেন। দেশভাগের পূর্ব হতে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ প...

বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে কয়েকটি কথা

আমির হোসেন আমু : আমাদের পারিবারিক ব্যবসা ছিল কলকাতায় (কাপড়ের দোকান)। থাকার বাড়িও ছিল। Hotel Bilkmore- এ আমার নানার শেয়ার ছিল। তার নাম ছিল বাদশা মিয়া (দত্তপাড়ার জমিদার)। পাকিস্তান হওয়ার পর পরিবারের সবাই একসাথে সবকিছু উইন্ডআপ/বিক্রি করে দেওয়ার জন্য যায়। ঐ সময় একদিন বিকেলে জনাব জাফর সাদেক (তানু নানা) বাসায় আসেন, কথাবার্তা বলার সময় আমাকে কোলে নিয়ে আদর করলে...

আমার দেখা মুজিব

সুফিয়া কামাল: শেখ মুজিবুর রহমান যখন বঙ্গবন্ধু হননি, বলা যেতে পারে তার কিশোর বয়স থেকেই আমি তাকে জানি। সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে তাকে প্রথম দেখি কলকাতায়। তখন ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র সে। রাজনীতিতে সোহরাওয়ার্দীর খ্যাতি যখন তুঙ্গে, সেই সময় থেকে ছাত্রকর্মী ছাত্রনেতা হিসেবে মুজিবুর রহমানকে আমি চিনি। নেতা হিসেবে সারাবিশ্বে পরিচিত হয়েছে মুজিবুর রহমান। কিন্তু আমার কাছে আমার ছ...

জ্ঞান ফেরার পর দেখি লাশের স্তূপে পড়ে আছিঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান সরকার

'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলে পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনে একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে দেখি, হলের পাশেই লাশের স্তূপে পড়ে আছি। তখন আসলে কী ভেবেছিলাম, মনে করতে পারব না। পরে বুঝতে পেরেছি, মরে গেছি ভেবে আমাকেও লাশের সঙ্গে ফেলে রেখে গেছে। তাকিয়ে দেখছিলাম, চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। রক্ত ও পচা গন্ধে দম বন্ধ যাওয়ার মতো অবস্থা।' কথাগুলো বলছিলে...

দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে নিয়ে টুকরো স্মৃতি

প্রফেসর ড. আবদুল খালেকঃ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবার পরিজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তাঁর নিজ বাসভবনে। এটি ছিল গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা তখন দেশের বাইরে ছিলেন বলে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান। দেশকে নেতৃত্বহীন করবার লক্ষে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ৪ নেতা জনাব ...

শেখ হাসিনা না এলে ইতিহাসের স্বপ্ন ভঙ্গ হতো

শ ম রেজাউল করিমঃ ইতিহাসের গতি-প্রকৃতির বিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ দেখা যায়, কাঙ্ক্ষিত একটি লক্ষ্য নিয়েই সময় ও কাল এগিয়ে চলে। পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতাকে এগিয়ে নিয়ে যায় সময়ের সাহসী নেতৃত্ব। অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে স্বীকার করতে হয় বিপুল ত্যাগের। কিন্তু যার বা যাদের ত্যাগের সিঁড়ি বেয়ে গতিময় হয়ে ওঠে পরিবর্তনের ধারা, তারা অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য দেখার সুযোগ পান না। তাদের ত্...

‘শেখ হাসিনা আপনিইতো বাংলাদেশ’

সুভাষ সিংহ রায়ঃ আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়– ‘জন্মদিন আসে বারে বারে/মনে করাবারে–/এ জীবন নিত্যই নূতন/ প্রতি প্রাতে আলোকিত/ পুলকিত দিনের মতন।’ ১৯৯৬ সালে বেগম সুফিয়া কামাল বঙ্গবন্ধুকন্যা...

বত্রিশ নম্বর থেকে ৫/১২ লালমাটিয়া

আবদুল্লাহ আল মামুনঃ ১৭ মে ১৯৮১। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের একটি বিমানে করে পাঁচ বছর সাড়ে ৯ মাস পর স্বজনহারা শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে ফিরলেন। মা-বাবা, তিন ভাইসহ স্বজনদের হারিয়ে তিনি তখন শোকে-দুঃখে পাথর হয়ে আছেন। সেদিন ঢাকায় এসে স্বজনদের মুখ দেখতে না পেলেও দেশের আপামর মানুষের ভালোবাসায় অভিভূত হয়েছিলেন তিনি। ওই দিন সন্ধ্যায় মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গণসংবর্ধনা নিয়ে জ...

বঙ্গবন্ধু-কন্যাকে নিয়ে টুকরো স্মৃতি

ডা. দীপু মনিঃ বঙ্গবন্ধু-কন্যা তখন গৃহবন্দি ধানমন্ডি পাঁচ নম্বর সড়কের সুধাসদনে। ২০০৭-এর সম্ভবত জুনের শেষ সপ্তাহ তখন। দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রবেশাধিকার নেই সেই বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করতে পারেন। আমি তখন সেই বাড়িতে প্রতিদিন যাই। যাই বঙ্গবন্ধু-কন্যার ব্যক্তিগত চিকিৎসক পরিচয়ে। তার কিছুদিন আগেই একদিন হঠাৎ করেই আমাকে আটকে দেওয়া হয়েছিল তার বাড়ি থেকে দুই মোড় আগে পাঁচ...

ছবিতে দেখুন

ভিডিও